বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে এখন সবচেয়ে বড় সুযোগ হচ্ছে প্রযুক্তির যথাযথভাবে ব্যবহার করা। আজ রোববার ঢাকার আগারগাঁয়ে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্সের মাল্টি পারপাস হলে ২ দিন ব্যাপী এক সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, আমাদের গবেষকদের যে মেধা আছে। ইনোভেশনের যে সুযোগ আমাদের আছে, তা বিশ্বের অনেক দেশের নেই। এটিকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে।

অনেক দেশের অনেক সম্পদ আছে, অর্থ আছে কিন্তু তাদের মানব সম্পদ নেই। আমাদের যে প্রায় ৬৫% তরুণ জনসংখ্যা আছে এদেরকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে বলে জানান সচিব।

তিনি উল্লেখ করেন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) সকল সমস্যার সমাধান দিবেনা। এআই সাজেস্ট করতে পারে কিন্তু ডিশিসন দিতে পারেনা, ডিশিসন দিতে পারে মানুষ। আর সেই মানুষ আমাদের আছে যা অনেক দেশের নাই। আমাদের যারা ইয়াং সায়িন্টিস্ট আছেন তারা ভবিষ্যতে ভালো করবে আশা করছি।

সচিব আরো জানান, সামনের দিনগুলোতে আমরা গবেষণার সাথে বাজারের সংযোগ তৈরী করার চেষ্টা করছি। গবেষণার ফলাফলকে সত্যিকার অর্থে সাধারণ মানুষের জীবন মানের উন্নয়নের জন্য, অর্থনীতির জন্য কাজে লাগানোটা হচ্ছে বড় চ্যালেঞ্জ। সেটা কিন্তু কারো একার পক্ষে সম্ভব নয়।

গবেষকদের উদ্দেশ্যে সচিব বলেন, আপনারা যখন যে গবেষণা করছেন গবেষণার ফলগুলো আমাদের কি কাজে লাগবে, কি উপকারে লাগবে এবং সেটা নেক্সট লেভেলে নিয়ে যাওয়ার জন্য কি কি সহযোগিতা আপনাদের লাগবে তা আমাদের জানাবেন।

সচিব আরো উল্লেখ করেন, গবেষণায় যেন ইম্পেক্ট আসে, গবেষণার ফলাফল যেন জীবনমানের উন্নয়নের জন্য, অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য ভূমিকা রাখতে পারে। শুধু রিসার্চ হলে হবেনা। গবেষণা কমার্শিয়ালি ভায়াবল হতে হবে এবং খাত ভিত্তিক গবেষণা করতে হবে।

আমাদের এত সীমাবদ্ধতা যে প্রোডাক্টগুলো আমরা ডেভলপ করতে পারছি না। প্রোডাক্টের হয়তো মার্কেটে আছে, কিন্তু সেটাকে মানসম্মত প্রোডাক্টে উন্নত করে গ্লোবাল মার্কেটে প্রতিযোগিতা করার সেই কাজটা আমাদের এখনো হয়নি। এটা আমাদের গবেষণার করতে হবে বলেও জানান তিনি।

সেমিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্র বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলো ড. আবু হেনা মুহাম্মদ ইউসুফ একটি গবেষণা পত্র পাওয়ার পয়েন্টে উপস্থাপন করেন।

তিনি সমুদ্রে বাংলাদেশের যত রকমের রিসোর্স আছে তার একটা ডাটা ইনফ্রাস্ট্রাকচার গঠন করার কথা বলেন এবং ব্লু-ইকোনোমি সেলকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে জোর দেন।

সেমিনারে সভাপতির বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও যুগ্মসচিব একেএম শওকত আলম মজুমদার এবং বিশেষ অতিথি'র বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) চেয়ারম্যান ড. সামিনা আহমেদ।

অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ ট্রাস্ট হতে ফেলোশিপ প্রাপ্ত ফেলোরা অংশগ্রহণ করেন।