যশোর শহরতলির ধর্মতলা খ্রিস্টান মিশনপাড়া ও গাজীপাড়ায় গাছ ও বাঁশ
খুঁটি হিসেবে ব্যবহার করে ৭০০ গ্রাহকের বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো)। সংযোগ দেয়ার প্রায় দেড় দশক অতিবাহিত হলেও সংস্কার করা হয়নি এসব ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইন। ঝুঁকিপূর্ণ এসব লাইনে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
গ্রামবাসী বলছে, বৈদ্যুতিক খুঁটি বসানোর দাবিতে একাধিকবার লিখিত আবেদন করেছেন তারা। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে প্রায় আড়াই হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এ অবস্থার মধ্যেই চলাচল ও বসবাস করতে হচ্ছে তাদের। এতে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
যশোর শহরতলির সদর উপজেলার আরবপুর ইউনিয়নের ধর্মতলা বাজার থেকে বিদ্যুৎ লাইন পূর্বদিকের প্রায় ২০০ গজ গিয়ে থেমেছে। ওই এলাকার খ্রিস্টান মিশনপাড়া ও গাজীপাড়ায় ৭০০ পরিবারের বাস।
সরেজমিনে দেখা গিয়েছে, ইটের সলিংয়ের রাস্তার পাশ দিয়ে বাঁশের খুঁটি পুঁতে ঝোলানো হয়েছে বিদ্যুতের তার। তারের জটলার ভার সইতে না পেরে বাঁশের খুঁটিগুলো হেলে পড়েছে। কোথাও বা হেলে থাকা বাঁশ ঠেকনা দেয়া হয়েছে আরেকটি বাঁশ দিয়ে। প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ওজোপাডিকোর বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন। এখানকার অনেকের ঘরের টিনের ওপর দিয়ে অন্য পরিবারে সংযোগ টানা হয়েছে। গ্রামবাসী জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে তারা বিদ্যুতের খুঁটির জন্য চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু খুঁটির ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হয়ে কর্তৃপক্ষ বাঁশ বসিয়ে সংযোগ দেয়। এর পর দেড় দশক ধরে এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছে ওজোপাডিকো।
গোলাম মোস্তফা কামাল নামে আরেক ভুক্তভোগী জানান, বিদ্যুৎ অফিসকে বহুবার অবহিত করা হয়েছে, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। বাচ্চাদের নিয়ে আমরা সবাই ঝুঁকির মধ্যে বাস করি।
স্থানীয় বাসিন্দা গীতা বিশ্বাস জানান, আমাদের এ দুই মহল্লায় বাঁশে বেঁধে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে। এভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করায় ঝুঁকির কথা বিবেচনায় রেখে অনেকে সংযোগ নেননি।
শহিদুল ইসলাম গাজী বলেন, তারা জানেন এভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নেয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ, তবু কিছু করার নেই। ঝুঁকি নিয়েই বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ অপেক্ষা করতে বলেছে। জানিয়েছে, শিগগিরই খুঁটি স্থাপন করা হবে। কিন্তু অদ্যাবধি হয়নি।
এদিকে বৈদ্যুতিক খুঁটি বসানোর দাবিতে বিভিন্ন সময়ে এলাকাবাসী স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে অভিযোগ ও স্মারকলিপি দিয়ে আসছে। সর্বশেষ গত ৩ অক্টোবর যশোর ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে ওজোপাডিকোর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম জানান, ওই এলাকার বাসিন্দাদের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। যশোর ওজোপাডিকোর আওতায় নতুন কোনো প্রকল্প না থাকায় আমরা ওই এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান করতে পারছি না। আগামীতে নতুন প্রকল্প এলে কাজ শুরু হবে।










