সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ ছাত্রের মাথার চুল কেটে দেয়ার ঘটনায় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬তম সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছেন রবীন্দ্র অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান লায়লা ফেরদৌস হিমেল।
তবে ওই শিক্ষককে স্থায়ীভাবে বরখাস্তের দাবিতে এখনো আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। অনশন কর্মসূচি থেকে সরে গিয়ে প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যসহ কয়েকজন কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে সেখানে অবস্থান নিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য আব্দুল লতিফও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট। একই সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থগিত করা হয়েছে সব পরীক্ষাও। অন্যদিকে তদন্তসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
প্রসঙ্গত গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস সংস্কৃতি ও বাংলাদেশ স্টাডিজ বিভাগের ১৪ জন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দেয়ার ঘটনায় রাতে বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র নাজমুল হোসেন তুহিন ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে অভিযুক্ত শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন প্রশাসনিক তিনটি পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
এদিকে শিক্ষক ফারহানাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত ও বিচারের দাবিতে বুধবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে অনশন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। অনশনে অসুস্থ হয়ে পড়েন চার শিক্ষার্থী। এর মধ্যে দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া বৃহস্পতিবার দুপুরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একাংশ মিছিল নিয়ে প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন।










