বিগত শাসনামলে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম (তুলি)। আসন্ন নির্বাচনে ঢাকা-১৪ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি। নির্বাচনী প্রচারণা, স্থানীয় ভোটারদের জন্য প্রতিশ্রুতি ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সম্ভাবনা-শঙ্কা নিয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আনিকা মাহজাবিন

নির্বাচনী প্রচারণা কেমন চলছে?

প্রচারণার এক সপ্তাহ পার হলো। এ সময়টায় প্রচারণার অংশ হিসেবে কমিটি ও সমিতিভিত্তিক মিটিংগুলোয় আমরা ফোকাস করছি। জনগণের দোরগোড়ায় গিয়ে যখনই আমরা ভোট চাইতে যাচ্ছি, তখনই মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া, ধানের শীষ এবং বিএনপির প্রতি অনেক ভালোবাসা দেখছি। সুষ্ঠু পরিবেশ থাকলে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে ঢাকা-১৪ আসনে ধানের শীষকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হতে দেখব।

কী ধরনের প্রতিশ্রুতি ভোটারদের আকৃষ্ট করছে?

ধানের শীষের হয়ে আমার এবারই প্রথম নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা। পরিবর্তনটা এখানেই। দেড় যুগেরও অধিক সময়ে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতনের শিকার যারা, তারা দেখেছে অপরাজনীতির শিকার হলে কী হয়। আমরা জুলাই দেখেছি। হাজারো প্রাণের বিনিময়ে এ ভোটাধিকার অর্জন। প্রত্যেকটি নির্বাচনের আগে এমন বিচারবহির্ভূত নির্যাতন ও গুম হতো। সেই ভোটে জনগণের কোনো অংশগ্রহণ ছিল না। পুরো বাংলাদেশ এ ভোটের জন্য অপেক্ষা করে আছে। প্রত্যেকটি মানুষের চোখেমুখে ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের অধিকার ফিরে পাওয়ার উচ্ছ্বাস দেখতে পাই।

জনগণের হাতকে শক্তিশালী করার জন্য জনগণকে পাশে নিয়ে বিএনপি পলিসি নিয়ে এসেছে। আমরা বিভিন্ন নীতি নিয়ে এসেছি। ফ্যামিলি কার্ড বা কৃষক কার্ড থেকে শুরু করে ৩১ দফার বাইরেও আমরা বিভিন্ন পলিসি নিয়ে এসেছি, যা নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সহযোগিতা করবে। জনগণের পাশে থাকা, তাদের শক্তিশালী করা এবং তাদের সঙ্গে নিয়ে নতুন বাংলাদেশ গঠনে প্রচণ্ড আশাবাদী আমরা।

আপনার এলাকার উন্নয়নে ভোটারদের আপনি কী আশা দিচ্ছেন?

ঢাকা-১৪ আসনে তিনটি থানা রয়েছে। পুরো জনগোষ্ঠীর মধ্যে অর্ধেকের বেশি নারী। আমার প্রথম দায়িত্ব জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তাদেরকে এগিয়ে আনতে হবে। এজন্য পুরুষের পাশাপাশি নারীদের প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। আর মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য খুব দ্রুতই কমিউনিটি লেভেলে কিছু সুরক্ষা কাউন্সিল গঠন করা দরকার। এলাকাভিত্তিক সিকিউরিটি কমিউনিটি গড়ে তোলার একটি পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।

সেই সঙ্গে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির প্রাপ্যতা অনেক জায়গায় নেই। এর অভাবে মানুষ দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে, সেটির সমাধান করা। শিক্ষা ব্যবস্থাও আমাদের পর্যাপ্ত নয়। স্বাস্থ্যসেবাও খুব অপ্রতুল। এক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। কাউন্দিয়া ও বনগাঁও ইউনিয়ন এখান থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। তাদের অনেক দিনের আকাঙ্ক্ষা একটি ব্রিজ। সবার আগে এটি নির্মাণ করতে হবে। চিকিৎসা ও শিক্ষায়ও এ জনপদ অনেক পিছিয়ে পড়েছে। তাদেরকে এক্ষেত্রে অনেক সাপোর্ট করতে হবে। কারিগরির দিকে তরুণ সমাজকে যুক্ত করে মাদক থেকে দূরে সরানোর মতো পদক্ষেপও আমরা গ্রহণ করব। দুর্নীতি, দখলদারত্ব এবং চাঁদাবাজিতে জিরো টলারেন্স রেখে যেন আমরা কাজ করতে পারি, সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি।

প্রচারণা চালাতে গিয়ে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ছেন?

নিরাপত্তার জন্য আমার সঙ্গে সবসময়ই লোকজনকে থাকতে হয়। কারণ শরিফ ওসমান হাদির ঘটনাটি প্রকাশ্যেই ঘটেছে। পরপর কিছু ঘটনা ঘটছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে এ ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি আমাদের হতে হতো না। শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিবেশে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া খুবই আবশ্যক। সব নাগরিকের ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোটদানের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকে সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে।

বিদ্যমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে বলে আপনার মনে হয়?

কিছুদিন আগেও আমাদের একজন কর্মীকে জখম হতে দেখেছি, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এর বিচার চাই। এটির বিচার না হলে রুল অব লর বাস্তবায়ন হয়েছে বলা যাবে না। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ধরনের আক্রমণ ব্যাপকভাবে বাড়ছে। ফলে জনগণের মধ্যে এক ধরনের কনফিউশন তৈরি হয়। এটি শক্ত হাতে দৃঢ়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। অন্যথায় ব্যাপক জনগোষ্ঠীর মধ্যে অপপ্রচার, নারী প্রার্থী হিসেবে আক্রমণ করা এ বিষয়গুলো কিন্তু প্রতিনিয়ত বেড়েই যাচ্ছে বলে আমার মনে হয়। এগুলো থামাতে হবে।

আপনার এ আসনে বিএনপির একজন বিদ্রোহী প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িয়েছে। সেটি আপনার ভোটে কোনো প্রভাব ফেলবে?

আমি বিএনপির অর্থাৎ ধানের শীষ হয়ে কাজ করছি। এ প্রতীকের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ভিন্নমাত্রার। সেটি নিয়েই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। শুধু একজনই নন; এ আসনে মোট ১২ জন প্রার্থী আছেন। তা সত্ত্বেও ধানের শীষকেই এগিয়ে যেতে দেখছি।

নির্বাচনে কারচুপির কোনো সম্ভাবনা দেখছেন?

ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে এখন পর্যন্ত চিন্তা করছি না। কারণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে বলে আশা করছি। প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের এ নিয়ে বৈঠক হচ্ছে। ভোট কেন্দ্রে গিয়ে কোনো ভোটার যাতে প্রতিবন্ধকতার শিকার না হয়, সে বিষয়ে সবাই আশ্বস্ত করছে।