সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে ‘নির্যাতনে’
রায়হান আহমদ নিহতের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত পুলিশের বহিষ্কৃত উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়ার সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল দুপুরে সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. আবুল কাশেম এ রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন। এর আগে বেলা দেড়টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এসআই আকবরকে আদালতে হাজির করে পিবিআই।
রায়হান হত্যা মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সিলেটের পুলিশ সুপার খালেদ উদ জামান বলেন, আকবরের সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। আদালত তা মঞ্জুর করেছেন।
রায়হান হত্যা মামলায় এর আগে আরো তিন পুলিশ সদস্যকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পিবিআই।
রায়হানের মৃত্যুর প্রায় এক মাস পর গত সোমবার সকালে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লক্ষ্মীপ্রসাদ ইউনিয়নের ডোরা সীমান্ত থেকে তাকে আটক করা হয়। ভারতে পালানোর সময় সাদা পোশাকে পুলিশ তাকে আটক করে বলে জানান সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন।
এরপর রাতে সিলেটে নিয়ে এসে আকবরকে পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করে জেলা পুলিশ। রায়হানের মৃত্যুর পর আকবর ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছিল।
গত ১০ অক্টোবর শনিবার মধ্য রাতে রায়হানকে নগরীর কাষ্টঘর থেকে ধরে আনে বন্দরবাজার ফাঁড়ি পুলিশ। পরদিন ১১ অক্টোবর ভোরে ওসমানী হাসপাতালে তিনি মারা যান। রায়হানের পরিবারের অভিযোগ, ফাঁড়িতে ধরে এনে রাতভর নির্যাতনের ফলে রায়হান মারা যান। ১১ অক্টোবর রাতেই রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার বাদী হয়ে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করেন।
এ ঘটনায় সিলেট মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান কমিটি তদন্ত করে ফাঁড়িতে পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর বিষয়ে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়। এ ঘটনায় ১২ অক্টোবর ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহার করা হয়। এর পর থেকে প্রধান অভিযুক্ত এসআই আকবর পলাতক ছিলেন। তাকে পালাতে সহায়তা ও তথ্য গোপনের অভিযোগে ২১ অক্টোবর ফাঁড়ির আরেক এসআই হাসানকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।










