প্রত্যেকটা পণ্যের এমআরপি ঠিক করে দেয়া ভ্যাটের রীতিনীতি নয় বলে মন্তব্য করেছেন এনবিআরের সদস্য (ভ্যাট বাস্তবায়ন ও আইটি) ড. মো. আব্দুর রউফ। দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি নাজমুল হাসানের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি এ কথা বলেন।
নাজমুল হাসান বলেন, ‘আমরা চাই প্রত্যেকটি পণ্যের উৎপাদন বা আমদানি পর্যায়ে এমআরপি নির্ধারণ পূর্বক ভ্যাট আদায় করা হোক। এতে দোকান ব্যবসায়ী ও ভোক্তা ভ্যাট নামের হয়রানি থেকে মুক্ত থাকবে।’
এ বিষয়ে ড. মো. আব্দুর রউফের কাছে জানতে চাইলে তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ভ্যাটের একটা আন্তর্জাতিক রীতিনীতি আছে। প্রথমে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে আমরা ভ্যাটের আন্তর্জাতিক রীতিনীতি অনুসরণ করব, নাকি আমাদের ইচ্ছামতো রীতিনীতি নির্ধারণ করে নেব। প্রত্যেকটা পণ্যের এমআরপি ঠিক করে দেয়া ভ্যাটের রীতিনীতি নয়।’
আগের মতো বছরে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রিতে ভ্যাট আওতামুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি। মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করে সংগঠনটি এ দাবি জানায়। এর আগে গত ৯ জানুয়ারি এনবিআর জানায়, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক লেনদেন ৩০ লাখ টাকার বেশি হলেই ভ্যাট দিতে হবে। ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত ভ্যাটের হার ৩ শতাংশ, আর বার্ষিক লেনদেন এর বেশি হলে ভ্যাট দিতে হবে ১৫ শতাংশ।
দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি বলেন, ‘বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ৩০ লাখ টাকা টার্নওভার পর্যন্ত ভ্যাটের আওতার বাইরে রেখে প্রজ্ঞাপন জারি করে, যা আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। আমরা এর তীব্র বিরোধিতা আগেও করেছি, বর্তমানেও করছি। আইন অনুযায়ী ৫০ লাখ টাকা টার্নওভার পর্যন্ত ক্ষুদ্র দোকান ব্যবসায়ী ভ্যাটের আওতার বাইরে। কিন্তু এনবিআর সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, শপিং মলে অবস্থিত দোকান ব্যবসাকে এর আওতার বহির্ভূত করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’
ঢাকা মহানগর দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি আরিফুর রহমান টিপু বলেন, ‘উৎপাদন বা আমদানি পর্যায়ে এমআরপি নির্ধারণ পূর্বক ভ্যাট আদায়ের দাবি করছি। ঈদুল ফিতরের মাস ছাড়া অন্য যেকোনো মাসে ভ্যাট অভিযান পরিচালনা করার দাবি করছি। সকল পণ্যের বর্ধিত ভ্যাট প্রত্যাহার পূর্বক ৫০ লাখ টাকা টার্নওভার পর্যন্ত ভ্যাটমুক্ত রেখে- সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, শপিং মলে অবস্থিত দোকানসহ সকল দোকানের ক্ষেত্রে কার্যকর করার দাবি করছি। ক্ষতিগ্রস্ত দোকান ব্যবসায়ীদের সুদ মওকুফ করে ১ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে ১৫ বছরের কিস্তিতে এককালীন ঋণ সুবিধা দাবি করছি।’










