যশোরে ভবদহ জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে টিআরএম চালুর দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি। গতকাল ভবদহ স্লুইস গেটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগ্রাম কমিটির নেতারা অভিযোগ করে বলেন, সরকার ভবদহ অঞ্চলের নদী ও জনপদবাসীকে ডুবিয়ে মারার স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। যে কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ড নদী বাঁচানোর পরিবর্তে নদীকে হত্যা করছে। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির উপদেষ্টা ইকবাল কবীর জাহিদ।

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, সরকারের গৃহীত ডেল্টা প্লান-১০০ ঘোষণায় ভবদহ এলাকার জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধানে সুস্পষ্টভাবে বলা রয়েছে পরিকল্পিত জোয়ারাধার (টিআরএম) বাস্তবায়নের কথা। টিআরএম কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার কারণে হরি নদীতে ব্যাপক হারে পলি জমা হয়। এতে করে জলাবদ্ধতা স্থায়ী রূপ নেয়। আর পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় বিভিন্ন প্রকল্পের নামে অর্থ তছরূপ শুরু করে। যেখানে টিআরএম ছাড়া বিকল্প নেই, সেখানে মিথ্যা তথ্য দিয়ে পানি সেচ প্রকল্প গ্রহণ করে কোটি কোটি টাকা তছরূপ ও জনপদের মানুষের শত শত কোটি টাকার ফসল, বসতবাড়ি নষ্ট ও মানবিক বিপর্যয়ের স্থায়ী ব্যবস্থা করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। গত মৌসুমে সেচের মাধ্যমে ব্যাপক ফসল উৎপাদনের কথা বললেও প্রকৃতপক্ষে ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে ফসল হয়নি। সেই সঙ্গে হরি নদী নাব্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলা হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। তাছাড়া এখনো বিলগুলো পানির নিচে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ি জলাবদ্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় স্থানীয়রা ৪৫ কোটি টাকার সেচ প্রকল্প বাতিল করার জন্য মতামত দিয়েছে। কিন্তু জনগণের মতামত উপেক্ষা করে আবারো ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকার পাম্প স্থাপনের বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ৪৫ কোটি টাকার প্রস্তাবিত প্রকল্প অনুমোদনের চেষ্টা চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী গণস্বার্থবিরোধী ও সরকারকে বিভ্রান্ত করতে প্রধান ভূমিকা পালন করছেন বলেও অভিযোগ করা হয়। এজন্য সংবাদ সম্মেলন থেকে তার অপসারণ ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক রণজিৎ বাঁওয়ালী, সদস্য সচিব অধ্যাপক অনিল বিশ্বাস বক্তব্য রাখেন। এ সময় সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।