নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের ওপর হামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে এ হামলা হয়। এ ঘটনায় মাহমুদুল হাসান শুভ (৩২) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল ভোরে বন্দরের কুড়িপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মাহমুদুল হাসান শুভ বন্দর উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেনের ছেলে।

এর আগে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় তাকে ১ নম্বর আসামি করে মামলা করেন বন্দরের কামতাল তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই শফিউল্লাহ। বন্দর থানায় এ মামলা করা হয়।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে লাঙ্গলবন্দ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এএসআই শফিউল্লাহসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য গাড়ি নিয়ে টহল দিচ্ছিলেন। এ সময় নিবন্ধনহীন মোটরসাইকেল নিয়ে এক যুবক সেই পথ ধরে যাচ্ছিলেন। দায়িত্বরত পুলিশ মোটরসাইকেল থামিয়ে পরিচয় জানতে চান। এ সময় নিজেকে ‘চেয়ারম্যান পুত্র শুভর লোক’ বলে নিজের পরিচয় দেন ওই যুবক। একপর্যায়ে ওই যুবক চলে যান। এর কিছুক্ষণের মধ্যে মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেনের ছেলে মাহমুদুল হাসান শুভর নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি দল পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এ সময় পুলিশের চার সদস্য আহত হন।

বন্দর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবু বকর সিদ্দিক জানান, চেয়ারম্যানের ছেলে শুভকে গ্রেফতারের পর আদালতে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় শুভকে প্রধান করে আটজনের নাম উল্লেখ এবং আরো ১০-১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে সড়কে পুলিশ মোটরসাইকেল চেক করছিল। এ নিয়ে শুভর লোকজনের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়। পরে তাদের ১০-১৫ জনের একটি দল এসে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে পুলিশের চার সদস্য আহত হয়েছেন। তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক জানান, পুলিশের দায়িত্ব পালনে বাধা এবং পুলিশকে মারধরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাকসুদের ছেলে শুভকে গ্রেফতারের পর দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।