যশোরের কেশবপুর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের মেরিনা পারভিন। স্বামী রিপন হোসেনের ছুরিকাঘাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ মে বেলা পৌনে ২টার দিকে বেলা মারা যান। তার ময়নাতদন্ত হয়েছে পরদিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে। ১টার দিকে তার মরদেহ নিয়ে স্বজনরা বাড়িতে রওনা হন। মারা যাওয়ার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর মরদেহ হাতে পান স্বজন। দীর্ঘ এ সময় মরদেহ যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে রাখা ছিল। মরদেহের অপেক্ষায় থেকে রোদবৃষ্টিতে ভিজে নাকাল স্বজনরা। শুধু মেরিনা পারভিনের স্বজন নন—হত্যা, আত্মহত্যা কিংবা দুর্ঘটনায় নিহতদের মরদেহ পেতে এভাবে অপেক্ষার প্রহর গুনতে হয় অন্যদেরও। 

বেলা ২টার পর হাসপাতালে মরদেহ এলে আর ময়নাতদন্ত হয় না। নিহতের স্বজনের অপেক্ষা করতে হয় পরের দিন পর্যন্ত।

নিহত মেরিনার মামা কেশবপুরের মনিরুজ্জামান জানান, মেরিনার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য থানা থেকে কাগজপত্র মর্গে না পৌঁছানোর কারণে তাদের প্রায় ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। এ দীর্ঘ সময় তারা একবার পুলিশ, একবার ডাক্তারের কাছে ধরনা দেন। বিপদের দিনে এটা যেন আরো বড় এক বিপদ।

গত ২৩ এপ্রিল ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের পিরুজপুর গ্রামের ফজলুর রহমানকে (৭০) আপন ছোট ভাই কুপিয়ে হত্যা করেন। যশোর জেনারেল হাসপাতালে তার মৃত্যু হলে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বেলা দেড়টার দিকে হাসপাতালের মর্গে পাঠানো। এ মৃতদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরদিন দুপুরে স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে অভিযোগ করেন নিহতের ছেলে রুহুল আমিন।

একই দিন যশোর সদরের চুড়ামনকাটি ছতিয়ানতলা গ্রামের গৃহবধূ সোনিয়া আক্তার সুমা (২৫) আত্মহত্যা করেন। তার ভাই সুমন আলী অভিযোগ বলেন, আমার বোন বেলা ১টার সময় মারা গেলেও মরদেহটি প্রায় ২৪ ঘণ্টা হাসপাতালের মর্গে ছিল। মরদেহ পেতে তাদের মর্গের সামনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। কোতোয়ালি থানা পুলিশের খামখেয়ালিপনার কারণে সময়ক্ষেপণ বেশি হয়। হাসপাতাল ও থানার সুরতহাল রিপোর্ট সময়মতো না আসায় বন্ধ থাকে কাটাছেঁড়া।

জানা যায়, যশোর জেলার আট উপজেলা ও পাশের জেলাগুলোর কোনো না কোনো এলাকা থেকে প্রতিদিনই ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য এক অথবা একাধিক মরদেহ আনা হয়। গত এক মাসে মর্গে একডজনেরও বেশি মরদেহ ২৪ ঘণ্টা পর ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। এতে স্বজনের মধ্যে রয়েছে ক্ষোভ।

ময়নাতদন্তের সঙ্গে যুক্ত মর্গের কর্মচারী (ডোম) অরুণ দাস বলেন, অনেক মরদেহ ২৪ ঘণ্টা মর্গে থাকে। ক কারণে তা আমি বলতে পারব না। সংশ্লিষ্ট ফরেনসিক বিভাগের ডাক্তার ব্যাখ্যা দিতে পারবেন।

যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আখতারুজ্জামান বলেন, থানা ও পুলিশের কাগজপত্র যদি বেলা ২টার মধ্যে হাসপাতালে পৌঁছে তাহলে ময়নাতদন্ত করা সম্ভব হয়। কাগজপত্র না আসায় অনেক মরদেহ পরদিন পোস্টমর্টেম করা হয়।

যশোর পুলিশের মুখপাত্র ডিবি পুলিশের ওসি রূপণ কুমার জানান, হাসপাতালে মরদেহ এলেই পুলিশ দ্রুত সুরতহাল রিপোর্ট করে। আমরা চেষ্টা করি, কেউ যাতে মরদেহ নিয়ে কষ্ট না পায়।