চট্টগ্রাম বন্দরে লাইটার জাহাজ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের অনিয়ম, ধীরগতি ও স্বচ্ছতার সংকট কাটাতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘লাইটার ভেসেল ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার’ চালু করেছে বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেল (বিডব্লিউটিসিসি)।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে নগরীর আগ্রাবাদে কাদেরী চেম্বারে বিডব্লিউটিসিসির কার্যালয়ে সফটওয়্যারটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সফটওয়্যারটির উদ্বোধন করেন নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের চিফ ইঞ্জিনিয়ার ও শিপ সার্ভেয়ার মির্জা সাইফুর রহমান।

বিডব্লিউটিসিসি জানায়, দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোতে মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাসে লাইটার জাহাজের সিরিয়াল ও বরাদ্দ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ ছিল। সম্পূর্ণ ম্যানুয়াল পদ্ধতির কারণে সিরিয়াল বাণিজ্য, বিলম্ব এবং স্বচ্ছতার অভাব তৈরি হচ্ছিল। এসব সমস্যার সমাধান ও লাইটার জাহাজ ব্যবস্থাপনায় গতিশীলতা আনতেই এ সফটওয়্যার চালু করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও বিডব্লিউটিসিসির সভাপতি কমডোর মো. শফিউল বারী বলেন, পণ্য পরিবহন নীতিমালা-২০২৪ অনুযায়ী এ সফটওয়্যার চালুর মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আসবে। সেইসঙ্গে জাহাজ মালিক, আমদানিকারক ও এজেন্টদের দীর্ঘদিনের আস্থার সংকট দূর হবে।

প্রাথমিকভাবে এ সফটওয়্যারের মাধ্যমে লাইটার জাহাজের সিরিয়াল ও বরাদ্দ ব্যবস্থা পুরোপুরি অটোমেশনের আওতায় আনা হচ্ছে। পরবর্তী ধাপে পাইলটিং, ড্যামারেজ সেটেলমেন্টসহ অন্যান্য জটিল বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে বিডব্লিউটিসিসি।

এটি বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ লাইটার ভেসেল ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার। সফটওয়্যারটি উন্নয়নে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছে দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন খাতের প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান জাহাজী লিমিটেড। প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে সফটওয়্যারটি তৈরি করা হয়েছে।

এ সফটওয়্যারের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তির মাধ্যমে ‘আগে আসলে আগে পাবেন’ ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয় সিরিয়াল নিশ্চিতকরণ, রিয়েল-টাইম বার্থিং লিস্ট, মাঝসমুদ্রে দুর্ঘটনার জন্য এসওএস অ্যালার্ট, জাহাজ ও স্টাফ প্রোফাইল সংরক্ষণ, দৈনিক অপারেশনাল স্ট্যাটাস ও আবহাওয়া বার্তা, ডিজিটাল ড্যামারেজ সেটেলমেন্ট ও স্মার্ট কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থাপনা।

এ ছাড়া পাইলটিং কুপনও ডিজিটাল করা হয়েছে। এর ফলে আর কুপন সংগ্রহ বা সিল মারার প্রয়োজন হবে না। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে বিকাশ বা ব্যাংকিং চ্যানেলে সরাসরি বিআইডব্লিউটিএতে অর্থ পরিশোধ করা যাবে, যা জাহাজ মালিক ও এজেন্টদের ভোগান্তি কমাবে বলে আশা করা হচ্ছে।