গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (আরপিও) সংশোধনের সবগুলো ধারার সঙ্গে বিএনপি একমত। তবে দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের বিষয়টিতে তারা একমত নয়। জোটবদ্ধ রাজনৈতিক দলের নেতারা দলীয় প্রতীকে নয় যেকোনো প্রতীকে নির্বাচন করার স্বাধীনতাসংক্রান্ত আগের যে বিধান ছিল, সেটা বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। সচিবালয়ে গতকাল বিকালে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সঙ্গে দেখা করে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘যারা জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করবে, তারা হয় নিজেদের প্রতীক বা জোটের অন্য প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার একটা স্বাধীনতা ছিল। সেই আইনের খসড়া যখন আমরা দেখেছি—নির্বাচন কমিশনও আমাদের পাঠিয়েছিল যে এ বিষয়ে মতামত আছে কিনা। এখানে অনেকগুলো সংশোধনী আনা হয়েছে। প্রায় প্রতিটি সংশোধনীর সঙ্গে আমরা একমত পোষণ করেছি। যেমন “না” ভোট, প্রার্থীদের জামানত বৃদ্ধি, নির্বাচনে যদি কোনো অনিয়ম হয় সেক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার বৃদ্ধি, ইচ্ছা করলে যেকোনো নির্বাচন তারা বাতিল করতে পারবে।’
তিনি বলেন, ‘আরো বেশ কয়েকটি বিধান সেখানে যুক্ত ছিল। আমরা সবগুলোর সঙ্গে একমত পোষণ করেছি। শুধু এ বিধানের সঙ্গে আমরা একমত পোষণ করিনি। যখন আইনটি ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়, তখনো অনানুষ্ঠানিকভাবে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে আইন উপদেষ্টার সঙ্গে আমি আলোচনা করেছিলাম। তখন তিনি বলেছিলেন, এটি সরকারের নজরে আনবেন। বিষয়টি আলোচনা করে যাতে একটা বিহিত হয়, সেটা বিবেচনা করবেন বা সরকার বিবেচনা করতে পারে। তারপর এ বিষয়ে তার সঙ্গে আবার কথা বলেছি। এ বিষয়ে আমাদের যে কনসার্ন (উদ্বেগ), আগে যে বিষয়টি ছিল, সেটি যাতে বহাল থাকে সে জন্য আমরা আবেদন করেছি। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে কাগজটি তাকে দিয়েছি। কয়েকদিন আগে নির্বাচন কমিশনকেও একই চিঠি দিয়েছি।’
সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা আশা করছি, বহুদলীয় গণতন্ত্রের স্বার্থে এ বিধান আগের মতো বহাল থাকবে। কারণ আমরা মনে করি অনেক দলের আকার ছোট হলেও সেখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নেতৃত্ব আছেন। তারা নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদে আসতে পারলে জাতীয় সংসদ সমৃদ্ধ হবে। বহু দলের, বহু আদর্শের প্রতিনিধিত্ব থাকলে জাতীয় সংসদ সমৃদ্ধ হয়, আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে তারা ভূমিকা রাখতে পারবেন। আমরা মনে করি, যেসব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল জোটভুক্ত হয়ে নির্বাচন করতে চায়, তারা হয় নিজেদের প্রতীকে কিংবা জোটবদ্ধ অন্য দলের প্রতীকে নির্বাচন করার যে স্বাধীনতা আগে ছিল, সেটা বহাল রাখা হোক।’
আইন উপদেষ্টা কী বলেছেন জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘তিনি সরকারের কাছে বিষয়টি তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন, প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করবেন। তারপরে কী করা যায়, সেটা বিবেচনা করে দেখবেন।’
তিনি বলেন, ‘আমি নির্বাচনসংক্রান্ত সংস্কার কমিশনের সমালোচনা করতে চাই। কারণ তারা এ বিষয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনেও বিষয়টি আলোচিত হয়নি। এ বিষয়ে কোনো ঐকমত্যও প্রতিষ্ঠা হয়নি। এ বিষয়ে হঠাৎ করে নির্বাচন সংস্কার কমিশন একটি বিষয় আরোপ করবে, সেটা সঠিক না।’










