জমির মূল্য না পেয়ে উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা আখাউড়া-আগরতলা রেলপথে গাছ ফেলে ব্যারিকেড দিয়েছেন শাহানূর নামে এক ব্যক্তি। গত রোববার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার শিবনগর এলাকায় রেললাইনের ওপর গাছ দিয়ে ব্যারিকেড দেন তিনি। শাহানূর শিবনগর এলাকার বাসিন্দা।

প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হওয়া আখাউড়া-আগরতলা রেলপথে আগামী ২২ আগস্ট পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন চলাচলের কথা রয়েছে। এরপর সেপ্টেম্বর মাসে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী বহুল কাক্সিক্ষত রেলপথটি উদ্বোধন করবেন।

আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ প্রকল্পের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান টেক্সমেকো রেল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের প্রকৌশলী রিপন শেখ বলেন, ‘যে অংশে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে- সেখানে আপাতত আমাদের কোনো কাজ চলছে না। মূলত আমরা ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে যখন কাজ শুরু করি তখন শাহনূর প্রবাসে ছিলেন। সেজন্য তিনি জমির মূল্য পাননি। তবে বিষয়টি নিয়ে প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে কথা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে শাহনূরকে তার জমির মূল্য বুঝিয়ে দেয়া হবে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব বিষয়টি আমলে নিয়েছেন। তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়েছেন।’

এদিকে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে গতকাল ভুক্তভোগী শাহানুর সরকারের সেই জমি পরিদর্শন করেছেন আখাউড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রশান্ত চক্রবর্তী।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রুহুল আমিন বলেন, ‘আখাউড়া-আগরতলা রেলপথের জন্যে অধিগ্রহণ করা জমির টাকা ২০১৭ সালেই মালিকদের বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। গত রোববার রেলপথে বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেন শাহানুর সরকার নামে এক ব্যক্তি। তিনি দাবি করেছেন, তার জমির ওপর দিয়ে রেললাইন তৈরি করা হয়েছে, কিন্তু তিনি অধিগ্রহণের টাকা পাননি। বিষয়টি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব আমলে নিয়েছেন। তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন।’

তিনি আরো বলেন, গতকাল দুপুরে অভিযোগকারী ব্যক্তির জমি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ১৬ আগস্ট জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা, সার্ভেয়ার এবং রেলওয়ের প্রকৌশলী উপস্থিত থেকে জায়গাটি শনাক্ত করে বিস্তারিত জানাবেন। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থেকে ভারতের আগরতলার নিশ্চিন্তপুর পর্যন্ত নির্মীয়মান ডুয়ালগেজ রেলপথটির দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে ১০ কিলোমিটার। এর মধ্যে বাংলাদেশ অংশে পড়েছে প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার। প্রকল্পের কাজ করছে ভারতীয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান টেক্সমেকো রেল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড। ইতোমধ্যে প্রকল্পের ৯০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। এ রেলপথটি সরাসরি উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে যুক্ত করবে বাংলাদেশকে।