২৫০
শয্যার কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গের পাশে পড়ে আছে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) সুবিধাসম্পন্ন একটি অ্যাম্বুলেন্স। লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স হলেও মূলত শুরু থেকে এটিতে ছিল না কোনো যন্ত্রপাতি।
ফলে এটি অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এতে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
প্রয়োজনীয় লোকবল, যন্ত্রপাতি আর জ্বালানির অভাবে ভারতের কাছ থেকে উপহার পাওয়া অ্যাম্বুলেন্সটি কোনো কাজে আসছে না। তাই বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে রোগীকে। এতে গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। আধুনিক অ্যাম্বুলেন্সের অভাবে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে আনার পথে মারা যাচ্ছে বহু রোগী।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে কভিড-১৯ মহামারির সময় উপহার হিসেবে বিশেষ এই অ্যাম্বুলেন্সটি পায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেখান থেকে এটি গত ১৭ নভেম্বর ২০২১ সালে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। যদিও অ্যাম্বুলেন্সটি চিকিৎসায় ব্যাপক অবদান রাখবে বলা হলেও এটি রোগী বহনে কোনো কাজে আসেনি। গত তিন বছরে অ্যাম্বুলেন্সটি ভিআইপি ডিউটিসহ ১৪ বার ব্যবহার করা হয়েছে। বর্তমানে এটি কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গের পাশে রয়েছে।
সম্প্রতি সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ১ হাজার ৪০০ রোগী সেবা নেন। এটি ২৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও এখানে ভর্তি রোগী থাকে অন্তত চার-পাঁচ শতাধিক। রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র নেয়ার ক্ষেত্রে লাইফ সাপোর্ট সুবিধাসম্পন্ন অ্যাম্বুলেন্সের খুব প্রয়োজন ছিল। বর্তমানে হাসপাতালে একটি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। কিন্তু সেটির অবস্থাও তেমন ভালো না। আর ভারত থেকে উপহার পাওয়া অ্যাম্বুলেন্সটির গতি কম হওয়ায় পড়ে আছে।
এ বিষয়ে উম্মে নওরীন সীমা নামে এক রোগীর স্বামী নুরুল আজিম বাবু জানান, কয়েকদিন আগে তার স্ত্রী সিজারসংক্রান্ত বিষয়ে শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা বা চট্টগ্রাম নেয়ার পরামর্শ দেন আইসিইউতে কর্মরত চিকিৎসকরা। কিন্তু লাইফ সাপোর্ট সংযুক্ত কোনো অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে রাত ৩টায় চট্টগ্রাম থেকে ২৫ হাজার টাকা দিয়ে আনা হয় সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সে। অথচ কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের আইসিইউর নিচে এই রকম অত্যাধুনিক মানের অ্যাম্বুলেন্স অব্যবহৃত পড়ে আছে।
হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সচালক আনোয়ার হোসেন জানান, ভারত থেকে উপহার পাওয়া লাইফ সাপোর্ট সুবিধাসম্পন্ন অ্যাম্বুলেন্সটিতে কোনো যন্ত্রপাতি নেই। সাধারণত জরুরি ভিত্তিতে অ্যাম্বুলেন্স ১০০-১২০ কিলোমিটার গতিতে চালাতে হয়। কিন্তু এ গাড়িটির গতি ৪০-৪৫ কিলোমিটার। তাই ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
হাসপাতালের মুখপাত্র ও আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. আশিকুর রহমান বলেন, ‘আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স হলেও এর মধ্যে নেই প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি। এটি মেরামত করার চেষ্টাও চালিয়েছি। কিন্তু সফল হয়নি। ফলে এটি নিয়ে আর কাঙ্ক্ষিত জরুরি সেবা দেয়া সম্ভব নয়। তবে গাড়িটি সচল রয়েছে।’
এ ব্যাপারে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মং টিং ঞো বলেন, ‘লাইফ সাপোর্ট সুবিধাসম্পন্ন অ্যাম্বুলেন্সটির খুবই প্রয়োজন ছিল। কিন্তু পরিপূর্ণ একটি লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্সে যেসব যন্ত্রপাতি প্রয়োজন তার কিছু নেই এটিতে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে এরই মধ্যে হাসপাতালে বিশেষায়িত স্ক্যান ও আইসিইউ সেবা চালু করা হয়েছে।’










