গত ৯ নভেম্বর আটক হয়েছিলেন পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান আহমদকে নির্যাতন করে হত্যা অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি পুলিশের বরখাস্তকৃত উপ-পরদির্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূইয়া। 

আজ মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। কিন্তু তিনি আদালতে স্বীকারোক্তি দিতে রাজি হননি। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা ফের রিমান্ড না চওয়ায় তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন সিলেটের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবুল কাশেম।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার মুহাম্মদ খালেদ-উজ-জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি বলেন, প্রয়োজনে আকবরকে আবার রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

এর আগে এই ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য এএসআই আশেক এলাহি, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস এবং হারুনুর রশীদকে রিমান্ডে নেয় পিবিআই। রিমান্ড শেষে তারাও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি।

রায়হানের মা সালমা বেগম অবশ্য প্রথম থেকেই পিবিআইয়ের তদন্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন। তার দাবি, পিবিআই পুলিশেরই একটি সংস্থা। তাদের দিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত সম্ভব নয়। এজন্য এই ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করে আসছেন তিনি।

আকবরকে গ্রেফতারের পর সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন জানিয়েছিলেন, আকবর হোসেনকে ৯ নভেম্বর কানাইঘাটের সীমান্তবর্তী ডোনা এলাকা থেকে জেলা পুলিশের একটি দল গ্রেফতার করে। ভারতে পালানোর সময় তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

যদিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কানাইঘাটের ডোনা সীমান্তের ওপারে খাসিয়া পল্লির বাসিন্দারা তাকে আটক করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়।

১০ নভেম্বর আকবরকে আদালতের মাধ্যমে ৭ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ড শেষে আজ আদালতে তোলা হয়।

নগরীর আখালিয়া নিহারিপাড়ার বাসিন্দা রায়হানকে ১০ অক্টোবর রাতে সিলেটের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। পরের দিন সকালে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তার বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনায় মামলাটির তদন্ত পিবিআইয়ের ওপর ন্যস্ত হলে ১৯ অক্টোবর ফাঁড়ির তিন কনস্টেবল আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে রায়হানকে নির্যাতনের বর্ণনা ও নির্যাতনকরীদের নাম বলেন। রায়হানকে নির্যাতনের মূল হোতা হিসেবে এসআই আকবরের নাম বলেন তারা।