বাংলাদেশে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও কারখানা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছেজার্মানভিত্তিক শিল্প সুতা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান আমান গ্রুপ। সম্প্রতি উত্তরাস্থ বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের সঙ্গে আমান গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্কাস নিকোলাউসের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধিদলের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজিএমইএ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, সভায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাজারের বর্তমান চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের কৌশলগত বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের পোশাক খাতের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। তিনি বলেন, চলতি বছরের শুরুর দিকে বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশের পোশাক রফতানিতে ধীরগতি থাকলেও বর্তমানে খাতটি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প এখন একটি বড় ধরনের রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমরা পণ্যের বহুমুখীকরণে ব্যাপক জোর দিয়েছি। তবে আমাদের বর্তমান মূল লক্ষ্য কেবল রফতানির পরিমাণ বাড়ানো নয়, বরং উচ্চ মূল্যের পোশাক তৈরি করা। এক্ষেত্রে আমান গ্রুপ এদেশের পোশাকখাতকে শুধু সুতা সরবরাহকারী হিসেবেই নয়, বরং একটি কৌশলগত ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে নানাভাবে সহযোগিতা করতে পারে।

বিজিএমইএ সভাপতি উল্লেখ করেন যে, জার্মানিতে এমন অনেক স্বনামধন্য ব্র্যান্ড রয়েছে, যারা এখনো বাংলাদেশ থেকে পোশাক সোর্সিং করছে না। তিনি আমান গ্রুপের সিইও-কে অনুরোধ জানান, জার্মানির সেসব ব্র্যান্ডের কাছে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের আমূল রূপান্তর ও সক্ষমতার চিত্র তুলে ধরতে এবং তাদের বাংলাদেশ থেকে সোর্সিং শুরু করতে উৎসাহিত করতে।

বৈঠকে বাংলাদেশে কারখানা সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়ে আমান গ্রুপের সিইও মার্কাস নিকোলাউস বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি এখানে আর কোন কোন খাতে নতুন বিনিয়োগ করা যায়। বিশেষ করে, বাংলাদেশের হাই-টেক টেক্সটাইল খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

তিনি আরো জানান, আমান গ্রুপ তাদের পণ্যের মাধ্যমে বাজারের ‘প্রিমিয়াম সেগমেন্ট’ বা উচ্চমানের আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর চাহিদা পূরণে কাজ করতে চায়।

জার্মানির এই আন্তর্জাতিক সুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের আমান বাংলাদেশ লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করে এ দেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বৈঠকে আমান গ্রুপের পক্ষ থেকে পোশাক শিল্পের বর্তমান বৈশ্বিক ও স্থানীয় রিস্ক ফ্যাক্টর, বাংলাদেশের শ্রমমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ট্যারিফ পলিসি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এর প্রভাব নিয়ে জানতে চাওয়া হয়। একই সঙ্গে দেশের বন্দর, জ্বালানি ও লজিস্টিকসসহ সামগ্রিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও এর ভবিষ্যৎ নিয়ে সভায় মতবিনিময় হয়।