সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাদের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট করে ঘুষ ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ পড়েছে দুদকে। অন্যরা হলেন তার সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) অতিরিক্ত সচিব হারুন অর রশিদ বিশ্বাস, যুগ্মসচিব ধনঞ্জয় কুমার দাস, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্লা ইব্রাহিম হোসেন, সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মনির হোসেন ও জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ মাহমুদ অপু।

গতকাল দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অভিযোগের অনুসন্ধানের জন্য দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে।

দুদকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দুদক অনুসন্ধান দল তাদের কাজ শুরু করেছেন। গতকাল তারা সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিরা যেন দেশের বাইরে যেতে না পারেন সে ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে। তাদের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার জন্যও আবেদন করা হবে।’  

দুদক সূত্রে জানা গেছে, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই ঘুষ হিসেবে পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও ফায়ার সার্ভিস থেকে টাকা আদায় করা হতো। এজন্য তৎকালীন অতিরিক্ত সচিব ড. হারুন অর রশীদ বিশ্বাসের নেতৃত্বে তারা সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। এ সিন্ডিকেটের অন্য সদস্যরা ছিলেন যুগ্মসচিব ধনঞ্জয় কুমার দাস, মন্ত্রীর এপিএস মনির হোসেন, জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ মাহমুদ অপু ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্লা ইব্রাহিম হোসেন। টাকা আদায় বা উত্তোলনে মূল ভূমিকা পালন করতেন ড. হারুন অর রশীদ বিশ্বাস। হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এই কামাল-হারুন সিন্ডিকেট। একপর্যায়ে হারুন অর রশীদ অবসরে গেলেও এ মন্ত্রণালয়ের সব ঘুস, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি। ঝুঁকি এড়াতে টাকাগুলো পাঠানো হয়েছে দেশের বাইরে।

দুদকের অনুসন্ধান টিমের অন্য সদস্যরা হলেন উপপরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন, সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ, নাছরুল্লাহ হোসাইন ও মোহাম্মদ জিন্নাতুল ইসলাম।