সিরাজগঞ্জে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেয়ার ঘটনায় আন্দোলনের মুখে প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন।
মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনা বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি ওই তিন প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আব্দুল লতিফ গতকাল দুপুরে নিশ্চিত করে জানান, চুল কাটার ঘটনার বিষয়ে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে সাতদিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। সে প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর তা দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
অভিযুক্ত ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান, সহকারী প্রক্টর ও প্রক্টটোরিয়াল বডির সদস্য পদে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
এদিকে যাদের চুল কেটেছেন তাদের চেনেন না বলে একটি টিভি চ্যানেলে দেয়া ওই শিক্ষকের এমন মন্তব্যের পর মঙ্গলবার রাতে তার কুশপুত্তলিকাও পুড়িয়েছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষাথীরা। এছাড়া গতকাল সকাল থেকেই বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। তাকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে অপসারণের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র অধ্যায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান লায়লা ফেরদৌস হিমেল বলেন, তার পদত্যাগের পর শিক্ষার্থীরা শান্তও হয়ে যায়। কিন্তু রাতে তিনি একটি বেসরকারি টেলিভিশনে বলেন, ‘আমি যাদের চুল কেটে দিয়েছি তাদের আমি চিনি না। তারা আমার শিক্ষার্থী কিনা তাও বলতে পারব না। এমন বক্তব্যের বিষয়টি জানাজানি হলে আবারো ক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।’
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সহযোগী অধ্যাপক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন সম্প্রতি ক্লাস চলাকালে চুল বড় রাখায় ছাত্রদের বকাঝকা করেন। গত রোববার পরীক্ষার হলের দরজার সামনে তিনি কাঁচি হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কক্ষে প্রবেশের সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে যাদের চুল মুঠোর মধ্যে ধরা গেছে, তাদের মাথার সামনের খানিকটা চুল তিনি নিজেই কেটে দেন। এরপর সেই শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা হয়। ছাত্রাবাসে ফিরে গিয়ে এসব শিক্ষার্থীর অনেকে মাথা ন্যাড়া করে ফেলেন। বিষয়টি ফেসবুকে ছড়ালে সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন সেই ১৪ ছাত্রকে ডেকে নিয়ে হুমকি দেন ও ভয়ভীতি দেখান বলেও তাদের অভিযোগ। এরই মধ্যে এক শিক্ষার্থী সোমবার অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।










