ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের হালদার পাড়ায় বাড়িতে ঢুকে ছুরিকাঘাত করার ঘটনায় এক লোককে গণধোলাই দিয়েছে স্থানীয়রা।  পরে পুলিশ প্রহরায় হাসপাতালের ভর্তি করালে সেখান থেকে ছিনিয়ে নিয়ে ফের গণধোলাই দেয়া হয়। 

গতকাল রোববার দিবাগত রাত ১১টার দিকে হালদার পাড়া ও সদর হাসপাতালে জরুরি বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। 

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, রাত ১০টার দিকে শহরের হালদার পাড়ায় পাঁচতলা একটি ভবনে অস্ত্রসহ প্রবেশ করেন বাবু মিয়া। ওই ভবনের মালিক মনিরুজ্জামানকে ছুরিকাঘাত করেন তিনি। এতে মনিরুজ্জামান গুরুতর আহত হন। এ সময় বাড়ির বাসিন্দাদের চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে এসে বাবু মিয়াকে ধাওয়া করে ধরে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোর্পদ করে। 

পরে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ এসে আহত মনিরুজ্জামান ও বাবু মিয়াকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।  এসময় উত্তেজিত জনতা আবারো জড়ো হয়ে পুলিশের হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভেতরেই বাবু মিয়াকে দ্বিতীয় দফা গণধোলাই দেয়।  পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিন যুবককে আটক করে। 

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. আরিফুজ্জামান হিমেল জানান, মনিরুজ্জামানের অবস্থা সংকটাপন্ন। তার শ্বাসনালীতে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে।  উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাবু মিয়ার হাত এবং মাথায়ও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে হাসপাতালে সার্জারি বিভাগে চিকিৎসা ভর্তি করা হয়েছে। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি আব্দুর রহিম জানান, বাবু মিয়া চুরি উদ্দেশে ওই বাড়িতে ঢুকেছিলেন।  তাকে আটক করে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। গণধোলাইয়ের ঘটনায় ৩ জনকে আটক হয়েছে।  আজ সোমবার দুপুরে আটক তিন জনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।