জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) তিনটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে নতুন রাজনৈতিক জোট। গতকাল বিকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’ নামে এ জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এনসিপি ছাড়া এ জোটে আরো রয়েছে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন ও আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে এবং দেশকে পুরনো রাজনীতির পথে যেতে না দেয়ার অঙ্গীকার নিয়ে এ জোটের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। জানা গেছে, সামনের দিনে এ জোটে যুক্ত হতে পারে গণঅধিকার পরিষদ।
নতুন রাজনৈতিক জোটের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ূম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর মেজর (অব.) ডা. আব্দুল ওহাব মিনার, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব ও উত্তরাঞ্চলের আহ্বায়ক সারজিস আলমসহ দল তিনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘পুরনো রাজনীতির প্রতি জনগণের মোহভঙ্গ ও ক্ষোভ নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে। প্রচলিত রাজনীতির বিষোদগার, হামলা, গুম-খুন, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস থেকে বেরিয়ে আসতেই নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগ দরকার। বহু প্রচেষ্টার পরও পূর্ণ সফলতা না এলেও জুলাই অভ্যুত্থানের অঙ্গীকার ও প্রত্যাশার ভিত্তিতে দেশের জন্য নতুন রাজনৈতিক দিশা দিতে তিনটি দল হাতে হাত মিলিয়ে যাত্রা শুরু করেছে।’ সংবাদ সম্মেলনে জোট গঠনের ঘোষণা দিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘পরিবর্তনের পক্ষের ও গণ-অভ্যুত্থানের লক্ষ্য বাস্তবায়নে আন্তরিক রাজনৈতিক শক্তি এ নতুন জোটের অধীনে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। জোটের লক্ষ্য কেবল নির্বাচনী সমঝোতা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে একটি মর্যাদাবান ও সার্বভৌম রাষ্ট্র নির্মাণ।’ এ সময় নাহিদ ইসলাম আরো বলেন, পুরনো ধাঁচের দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে সংস্কার এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা ছিল তাদের অন্যতম ভুল। এবার তারা কেবল সংস্কারপন্থী রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে সঙ্গে নিয়ে এগোবেন। একই সঙ্গে পুরনো রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের ভেতরে গণতন্ত্র ও সংস্কারের পথে আসার আহ্বান জানান তিনি।
নতুন জোটে গণঅধিকার পরিষদের মতো রাজনৈতিক দল এবং ইউনাইটেড পিপলস (আপ) বাংলাদেশ ও ইনকিলাব মঞ্চের মতো জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গঠিত প্লাটফর্মগুলোর যুক্ত হওয়ার বিষয়ে কিছুদিন ধরে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছিল। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব বণিক বার্তাকে বলেন, ‘গণঅধিকারের সঙ্গে আলোচনা চলমান আছে। গতকাল রাতেও তাদের সঙ্গে একটি অনানুষ্ঠানিক মিটিং হয়েছে। তারা সিদ্ধান্ত নিতে দুই-একদিন সময় নিয়েছে। আমরা ইতিবাচক ইঙ্গিত পেয়েছি। হয়তো তারা অচিরেই চলে আসবে।’
অন্যদিকে আপ বাংলাদেশ ও ইনকিলাব মঞ্চের মতো প্লাটফর্মের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলের নির্দিষ্ট লক্ষ্য-উদ্দেশ্য থাকে। কিন্তু তাদের অবস্থান ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সুস্পষ্ট না। তারা এখনো অরাজনৈতিক প্লাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। আমাদের জোটে এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলো যুক্ত হচ্ছে। সে কারণে তাদের বিষয়ে বিবেচনা করা হয়নি।’ সামনের দিনে পরিবেশ-পরিস্থিতির আলোকে জোট সঙ্গীদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে আদিব জানান।










