কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্জ্য ও দূষিত পানি অপসারণে নির্দেশনা দিয়েছেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার শাহ রেজাওয়ান হায়াত। আজ মঙ্গলবার সকালে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালংয়ে কৃষকদের দুর্ভোগের চিত্র পরিদর্শনকালে এমন নির্দেশনা দেন। এসময় তিনি কৃষকদের দুর্ভোগ নিরসনের আশ্বাস দেন এবং বর্জ্য অপসারণে দাতা সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দেন।
ক্যাম্পের বর্জ্য ও দূষিত পানি আশপাশের চাষাবাদের জমিতে মিশে জমিকে চাষের অযোগ্য করে ফেলেছে। গত পাঁচ বছরে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেও কোনো ফল পাননি স্থানীয় কৃষকরা। সম্প্রতি কুতুপালং এলাকার কৃষকদের দুর্ভোগ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হয় প্রশাসন।
তবে স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা কাটছে না। কৃষকদের আশঙ্কা, বর্জ্য নিরসনের উদ্যোগ নেয়া হলেও দূষিত পানি নিষ্কাষণের ব্যবস্থা না নেয়া হলে প্রকৃত সমাধান মিলবে না। তারা জানান, ক্যাম্পের দূষিত পানি আবারো শত শত একর চাষাবাদের জমি এবং মাটিকে চাষের অযোগ্য করে ফেলতে পারে। এতে করে পরিবেশের ওপর বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। স্থায়ী সমাধানের জন্য ক্যাম্প থেকে আসা দূষিত পানি রোধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানান স্থানীয়রা।
দেখা গেছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্জ্য ও দূষিত পানি এসে মেশায় কুতুপালং এলাকার ৫০-৬০ একর জমি চাষাবাদের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে জমিগুলো বর্জ্য এবং দূষিত পানির ডোবায় রূপ নিয়েছে।
আজ পরিদর্শনে গিয়ে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার শাহ রেজাওয়ান হায়াত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং নানা সমস্যার কথা শোনেন। পরিদর্শন শেষে তিনি জানান, স্বল্পমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে কৃষকদের সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও দাতা সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে কৃষকদের ক্ষতির বিষয়টি গভীরভাবে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের চাষাবাদের জমি থেকে বর্জ্য অপসারণে জাতিসংঘের দাতা সংস্থাগুলো এরই মধ্যে সাড়া দিয়েছে। আগামী এক সপ্তাহ ধরে শতাধিক শ্রমিক বর্জ্য অপসারণে কাজ করবে। পরবর্তী স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে এবং ধাপে ধাপে স্থানীয়দের ক্ষতির বিষয়টি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলে তিনি জানান।
পরিদর্শনকালে অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার সামছু-দ্দৌজা নয়ন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমরান হোসাইন সজীব, ইউএনএইচসিআর-এর কক্সবাজার অফিস প্রধান (ভারপ্রাপ্ত) লোয়ান ওসমানী, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি'র কক্সবাজার প্রধান শিলা, সিনিয়র কর্মকর্তা ড্যানিয়েল, ইউএনএইচসিআর-এর লিয়াজোঁ অফিসার ইকতিয়ারুদ্দিন বায়েজিদ, আইএসসিজির সৈকত বিশ্বাস, ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিনসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।










