পিআর পদ্ধতিতে ভোট হলে জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষমতা খর্ব হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বাংলাদেশ খ্রিস্টান ফোরামের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এখন একটা প্রস্তাব এসেছে—পিআর। আজকে যখন হঠাৎ করে সামনে এই বিষয়টা আসছে এবং তার জন্য আন্দোলন হচ্ছে, যারা গণতান্ত্রিক সরকার গঠন করার জন্য দ্রুত একটা নির্বাচন চাই—আমরা স্বাভাবিকভাবেই একটু উদ্বিগ্ন হই। সেজন্য আমরা খুব পরিষ্কার করে বলেছি যে এই বিষয়টা আগামী পার্লামেন্টের ওপর ছেড়ে দিতে হবে। আগামী পার্লামেন্টের প্রতিনিধিরা যদি মনে করে যে তারা তারপর থেকে পিআরে যাবেন, যাবেন! জনগণ যদি মনে করে যে পিআরে যাবে, যাবে!’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখন পিআর দিলে তো জনগণ বুঝবেই না যে কীভাবে তারা এই বিষয়টাতে আসবে। একটা বড় সমস্যা এখানে—পিআর পদ্ধতিতে ব্যক্তির যে স্বাধীনতা থাকে তার প্রতিনিধি নির্বাচন করার সেই স্বাধীনতাটা এখানে কিন্তু খর্ব হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘আজকের রাজনীতিতে একটা প্রবণতা দেখা যাচ্ছে যে ১৯৭১ সালে যেজন্য আমরা যুদ্ধ করেছিলাম, স্বাধীনতার যুদ্ধ, আমাদের সম্পূর্ণ আলাদা একটা পরিচিতি, বাংলাদেশী হিসেবে আমাদের সেই আইডেন্টিটিকে ভুলিয়ে দিয়ে নতুন করে কতগুলো চিন্তাভাবনা সামনে নিয়ে আসার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এটা আমাদের বাংলাদেশের জন্য মঙ্গলজনক নয়।’

বিএনপি মহাসচিব আরো বলেন, ‘আমরা এ কথাটা খুব পরিষ্কার করে বলতে চাই, আমরা বাংলাদেশী এবং ১৯৭১ সালে আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধ করে আমাদের স্বাধীনতা নিয়ে এসেছি। এটা আমাদের বলতে হবে, প্রতি মুহূর্তে মনে রাখতে হবে। আজকে দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই বাংলাদেশে, বিভিন্ন রকমের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে, এটাকে একটা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার জন্য। আমরা সব সময় এটার প্রতিবাদ জানিয়েছি।’