‘ছুরিকাঘাতে’
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থী বুলবুল আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার রাতে ক্যাম্পাসে মিছিল-সমাবেশ হয়েছে। রাত ১২টার পর থেকে শিক্ষার্থীরা সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। গতকাল সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে মিছিল করেছেন। অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন বহিরাগতকে আটক করা হয়েছে। তাদের পরিচয় জানায়নি পুলিশ।
ক্যাম্পাস সূত্র জানায়, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে মেয়েদের আবাসিক হলের পাশে গাজিকালুর টিলায় ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে বুলবুল আহমেদ গুরুতর আহত হন। আহতাবস্থায় দেখতে পেয়ে শিক্ষার্থীরা তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বুলবুল ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আবু হেনা পহিল বলেন, ওই শিক্ষার্থীর বুকের বাম পাশে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে কয়েকজন শিক্ষার্থী উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে নিয়ে যান। সেখানেই তার পালস ছিল না। পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে কে বা কারা ছুরিকাঘাত করেছে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন।
জালালাবাদ থানার ওসি নাজমুল হুদা খান সাংবাদিকদের বলেন, ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ একটি টিলায় বুলবুলের রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখে অন্য শিক্ষার্থীরা প্রশাসনকে খবর দেয়।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) আশরাফ উল্লাহ তাহের জানান, বহিরাগত তিনজনকে সোমবার রাতে আটক করেছে জালালাবাদ থানা পুলিশ। এ ঘটনায় জালালাবাদ থানায় বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার ইশফাকুল হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেছেন।
পালানোর সময় আটক বুলবুলের বান্ধবী: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে নিহত বুলবুল আহমেদের সঙ্গে থাকা ছাত্রী মার্জিয়া আক্তার ঊর্মি হাসপাতাল থেকে পালিয়েছেন। পরে তাকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে নগরীর মাউন্ট এডোরা হাসপাতাল থেকে ওই ছাত্রী পালিয়ে যান।
সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ বলেন, বুলবুলের মরদেহ দেখে মূর্ছা যাওয়া ওই ছাত্রীকে আমরা হাসপাতালে ভর্তি করে পর্যবেক্ষণে রেখেছিলাম। গতকাল বিকালে তিনি পালিয়ে যান। পরে নগরীর উপকণ্ঠ বাদাঘাট থেকে ক্যাম্পাসের দিকে আসার পথে তাকে আটক করা হয়েছে।
নরসিংদীতে দাফন সম্পন্ন: শাবিপ্রবির লোকপ্রশাসন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বুলবুল আহমেদ নরসিংদী সদরের চিনিশপুর এলাকার বাসিন্দা মৃত ওয়াহাব মিয়ার ছেলে।
গতকাল মাগরিবের নামাজ শেষে নরসিংদী শহরের ভেলানগর বাসস্ট্যান্ডের পাশে ঈদগাহ মাঠে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরে বুলবুলের পৈত্রিক ভিটা নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদীর নোয়াকান্দা গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়।










