গণতান্ত্রিক শ্রম আইন, যৌন হয়রানিমুক্ত কর্মপরিবেশ ও সবেতন মাতৃত্বকালীন ছুটি ৬ মাস ও ছাঁটাই-টার্মিনেশন বন্ধ ও টিএনজেডসহ সব কারখানার শ্রমিকের বকেয়া পাওনা পরিশোধসহ ১০ দফা দাবিতে শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শুক্রবার (২৩ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির উদ্যোগে ‘শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন ও গণঅভ্যুত্থানের অর্জন রক্ষায় ঐক্য গড়ো’ শ্লোগানে ছাঁটাই-টার্মিনেশন বন্ধ ও টিএনজেডসহ সব কারখানার শ্রমিকের বকেয়া পরিশোধ, গণতান্ত্রিক শ্রম আইন, যৌন হয়রানিমুক্ত কর্মপরিবেশ, স্ববেতন মাতৃত্বকালীন ৬ মাস ছুটিসহ ১০ দফা দাবিতে শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, আগামী জুলাই মাসে শ্রম আইনের অধ্যাদেশ হবার সম্ভাবনা আছে। সে ক্ষেত্রে শ্রম আইন পরিবর্তনসহ অন্যান্য মোট ১০ দফা দাবিতে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে একটি র্যালি পল্টন এলাকা প্রদক্ষিণ করে।
গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির কেন্দ্রীয় সভাপ্রধান ও শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য তাসলিমা আখতারের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক হাসান আশরাফ, নারী সংহতির সাধারণ সম্পাদক অপরাজিতা দেব, গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সহসভাপ্রধান অঞ্জন দাস, নুরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহীম চৌধুরী, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সম্পাদক ও টিএনজেড পোশাক শ্রমিকদের নেতা সত্যজিত বিশ্বাস, ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈকত আরিফ, ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক আলিফ দেওয়ানসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।
শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতিকে ধন্যবাদ জানান শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ ও প্রস্তাবনা প্রদানের ঠিক এক মাস একদিন পর রাজপথে প্রথম শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশের পক্ষে দাবি তুলবার জন্য।
তিনি বলেন, গণঅভ্যু্থানের অর্জন রক্ষা করা সম্ভব হবে না যদি দেশের পোশাক শ্রমিকসহ ৮ কোটি শ্রমিকের অধিকার বাস্তবায়িত না হয়। দেশের শ্রমিকের অধিকার বাস্তবায়নের সঙ্গে সমাজের অন্যান্য ক্ষেত্রের উন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তরে সম্পর্ক জড়িয়ে আছে। তাই কমিশনের প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন দেশের ৮ কোটি জনগণের অধিকার লড়াইয়ের প্রশ্ন। তিনি গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির ১০ দফার ১ম দফা- শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবিকে শ্রম সংস্কার কমিশনের সব সুপারিশের পক্ষে থাকার স্মারক বলে অভিহিত করেন। তিনি শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতান্ত্রিক শ্রম আইন বাস্তবায়নের জন্য লড়াই অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
তাসলিমা আখতার ও অন্যান্য বক্তারা গত ২১ এপ্রিল শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ সরকারের কাছে পেশ করবার জন্য শ্রম সংস্কার কমিশনকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশের আলোকে গার্মেন্ট শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে ১০ দফা বাস্তবায়নের জন্য শ্রমিকদের ঐক্য গড়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তীতে সরকার নতুন শ্রম অধ্যাদেশ করতে যাচ্ছে। তাই পোশাক শ্রমিকসহ দেশের সব শ্রমিকের জন্য শ্রমিকবান্ধব গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবি। নেতারা বলেন, শ্রমিকদের মজুরি, প্রকৃত ট্রেড ইউনিয়ন, ভয় ও হয়রানিমুক্ত কর্ম পরিবেশ ও ৬ মাস সবেতন মাতৃত্বকালীন ছুটিসহ ১০ দফা বাস্তবায়নে শ্রমিক-নারীসহ দেশের সব গণতান্ত্রিক শক্তির মাঠের লড়াই-আইনি লড়াই ও সাংস্কৃতিক লড়াই অব্যাহত রাখতে হবে।
নেতারা আরো বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন কর্মপরিবেশের স্বপ্ন দেখলেও প্রায় লক্ষাধিক শ্রমিক ছাঁটাই ও টার্মিনেট হয়েছে। বন্ধ হয়েছে বহু কারখানা। নেতারা টার্মিনেশন বা ২৬ ধারার অপপ্রয়োগ বন্ধ করে শ্রমিকদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও সংগঠন করার অধিকার বাস্তবায়নের দাবি জানান। একই সঙ্গে মালিক ও সরকারকে টিএনজেডসহ সব শ্রমিকের বকেয়া পাওনা দ্রুত পরিশোধ করার আহবান জানান তারা।










