লক্ষ্মীপুরে একটি স্বর্ণালঙ্কারকে কেন্দ্র করে রাশেদা বেগম নামে এক গৃহবধূর গায়ে কেরসিন ঢেলে আগুন দিয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এতে ওই গৃহবধূর শরীরের ৫০ শতাংশই আগুনে পুড়ে গেছে। 

অভিযোগ উঠেছে, স্বর্ণের একটি চেইন ফেরত না পেয়ে গৃহবধূকে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন তারই দেবরের শ্বশুর মাইন উদ্দিন ও তার লোকজন।

গতকাল মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চরউভূতি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা মুমুর্ষ অবস্থায় ওই গৃহবধুকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক রাতে তাকে ঢাকায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠিয়েছেন।

গৃহবধু রাশেদা চরউভূতি গ্রামের জাহের হোসেনের স্ত্রী।

স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে বিয়েতে উপহার পাওয়া একটি স্বর্ণের গলার চেইন গৃহবধূ রাশেদার কাছে রাখেন তার দেবর। বিষয়টি জানতে পেরে দেবরের শ্বশুর মাইন উদ্দিন গোচ্ছিত রাখা চেইনটি রাশেদার কাছে দাবি করেন। তবে তিনি স্বর্ণের চেইনটি দেবরকেই ফেরত দেবেন বলে জানিয়ে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হন মাইন উদ্দিন।

রাশেদার পরে অভিযোগ করেন, তার ঘরে আসা-যাওয়ার মাঝে স্বর্ণের কানের দুলসহ গলার চেইনটি কৌশলে চুরি করে নিয়ে যায় তার ওই দেবরের স্ত্রী। ফলে রাশেদার কাছে চেইনটি তার দেবর ফের চাইলেও তিনি দিতে পারেননি। এ নিয়ে গত ৬ মাস আগেও একবার বাগবিতণ্ডা হয়। সেই সময় দেবরের শ্বশুড় বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে একটি মামলাও দায়ের করেন রাশেদা।

দীর্ঘদিন পর ওই বিষয়টি পারিবারিকভাবে মিমাংসার জন্য গৃহবধু রাশেদার স্বামীর বাড়ি আসেন দেবরের শ্বশুর বাড়ির লোকজন। বৈঠকে মতের অমিল হওয়ায় আবারও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন দেবরের শ্বশুর মাইন উদ্দিন। এক পর্যায়ে কয়েকজন মিলে হত্যার উদ্দেশ্যে বাড়ির পাশে নির্জনে রাশেদার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেন। এ সময় রাশেদার চিৎকারে স্থানীয়রা টের পেলে তাকে ঘটনাস্থল থেকে মুমুর্ষ অবস্থায় গৃহবধুকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। 

সদর হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, গৃহবধূ রাশেদা বেগমের শরীরের ৫০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন জানান, বিয়েতে উপহার পাওয়া একটি স্বর্ণের চেইনকে কেন্দ্র করে কেরসিন ঢেলে গায়ে আগুল লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলার প্রস্ততি চলছে।