খুলনার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের খাশিটানা গ্রামে বৃহস্পতিবার ভোরে হঠাৎ করেই ধসে পড়ে শাকবাড়িয়া নদীর বেড়িবাঁধ। তবে ওই সময় নদীতে ভাটা চলায় লোকালয়ে পানি প্রবেশ করতে পারেনি। তবু আতঙ্ক বাড়ে স্থানীয়দের মধ্যে। যে যা পারেন তাই নিয়ে নেমে পড়েন বাঁধ মেরামতে। নদীতে জোয়ার আসার আগেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৩-১৪/১ নম্বর পোল্ডারের বেড়িবাঁধের ধসে পড়া ২০০ মিটার বাঁধ স্বেচ্ছাশ্রমে মেরামত করেন তারা। এর পরও আতঙ্ক কাটেনি এলাকাবাসীর। দ্রুতই বাঁধটির টেকসই সংস্কার চান।
দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুস সালাম বলেন, ২০০৯ সালে আইলার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধটি ব্লক দিয়ে সংস্কার করা হয়েছিল। তবে গত বছর থেকে বাঁধে পুনরায় ভাঙন দেখা দেয়। এর মধ্যে তিন মাস আগে কিছু জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙনরোধের চেষ্টা করা হলেও টেকসইভাবে সংস্কার করা হয়নি। তাই বৃহস্পতিবার ভোরে আবারও বাঁধের ২০০ মিটার ধসে যায়।
আবদুস সালাম আরো বলেন, বেড়িবাঁধ ভাঙনে হুমকিতে পড়েছে বাঁধসংলগ্ন খাশিটানা, আংটিহারা, ঘড়িলাল, জড়শিং ও ছোট আংটিহারা গ্রামের প্রায় সাত হাজার মানুষ। নদীর লোনাপানিতে ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে প্রায় ২০০ একর আমন ফসলের খেতসহ মাছের অসংখ্য ঘের। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় প্রাথমিকভাবে পানি প্রবেশ ঠেকাতে পারলেও জোয়ারে আবার ভেঙে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
কয়রা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম শফিকুল ইসলাম বলেন, ভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ উপকূলে এখন নিয়মিত বিষয়। ভাঙনের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করে জীবিকা চালানো এলাকার মানুষ এখন বাঁধ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।
বেড়িবাঁধের এলাকাটি পড়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাতক্ষীরা বিভাগ-২-এর আওতায়। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহনেওয়াজ তালুকদার বণিক বার্তাকে বলেন, ধসে যাওয়া বাঁধটি সংস্কারে স্থানীয় বাসিন্দাদের বস্তা, বাঁশ ও আনুষঙ্গিক সামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাঙনকবলিত ঝুঁকিপূর্ণ এ বেড়িবাঁধ সংস্কার করা হবে।
কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে মাইকিং করে গ্রামবাসীকে বাঁধের কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। সকাল থেকেই সাধারণ মানুষ এগিয়ে এসেছে। তারা স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধটি মেরামত করছে।
এদিকে দাকোপ উপজেলার পানখালী ইউনিয়নের পানখালি বেড়িবাঁধেও ভাঙন দেখা দেয়ায় উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন এলাকাবাসী। পানখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ সাব্বির আহমেদ বলেন, মঙ্গলবার ভোরের ভাটায় পানখালি বেড়িবাঁধের অনেক অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতির কারণেই বাঁধটি ভেঙেছে। কেননা ফাটল ধরার পরই পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হলেও তারা এগিয়ে আসেনি।
সাব্বির আরো বলেন, বেড়িবাঁধের পাশ দিয়ে দ্রুত বিকল্প বাঁধ নির্মাণ করা না হলে যেকোনো সময় বাঁধের বাকি অংশও বিলীন হয়ে এলাকা প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সুজাত কর্মকার জানান, পানখালিতে নদীগর্ভে বিলীন হওয়া বাঁধের ভাঙনের স্থলে বালিভর্তি জিও ব্যাগ ও সিনথেটিক ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। ওই স্থানে জিও টিউব এবং মাটির কাজের প্রস্তুতি চলছে।










