লক্ষ্মীপুরে বিএনপির পদযাত্রা থেকে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও নিহতের ঘটনায় সদর থানায় চারটি মামলা হয়েছে। গতকাল বুধবার (১৯ জুলাই) রাতের এ সব মামলার তিনটিতে তিন হাজার ৩৫৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোসলেহ উদ্দিন।

তিনি জানান, লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানায় পুলিশের দুটিসহ মোট চারটি মামলা করা হয়।

কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীকে প্রধান আসামি করে দুই মামলায় ৫৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৩০০০ জন আসামিসহ তিন মামলায় মোট তিন হাজার ৩৫৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাতে সদর থানা পুলিশের এস আই আনিছুর রহমান বাদি হয়ে বিষ্ফোরক দ্রব্য ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করে। এ মামলায় এ্যানীকে প্রধান আসামি করে ৩০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরো ১৫০০ জনকে আসামি করা হয়।

পৃথক আরেকটি মামলায় সদর থানার এস আই মোজাম্মেল হোসেন বাদি হয়ে পুলিশের কাজে বাধা ও পুলিশকে আহত করার ঘটনায় বিএনপির একই নেতাকে প্রধান আসামি করে ২৫ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ১৫০০ জনকে আসামি করেছেন।

জেলার কমলনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন রাজুর লক্ষ্মীপুর শহরের বাড়ি ও গাড়ি ভাংচুরের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ৩০০ জনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে আরেকটি মামলা দায়ের হয়েছে।

এছাড়া সজিব নামে কৃষক দল কর্মী হত্যার ঘটনায় নিহতের ভাই মো. সুজন হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা একাধিক আসামির বিরুদ্ধে পৃথক মামলা দায়ের করেছেন।

লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার মো. মাহাফুজ্জামান আশরাফ বলেন, পৃথক চারটি মামলায় মোট ৫৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো তিন হাজার ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। উল্লেখিত আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গত ১৮ জুলাই বিকাল ৪টার দিকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শেখ হাসিনার পদত্যাগ দাবিতে এ্যানীর বাসভবন থেকে পদযাত্রা বের করেন জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। পদযাত্রা জেলা শহরের সামাদ মোড় সংলগ্ন কলেজ রোড এলাকায় পৌঁছালে প্রথম ধাপে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের কিছুসংখ্যক নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাস্থল থেকে সজীব নামে এক যুবকের রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বিএনপির দাবী নিহত সজীব কৃষক দলের কর্মী।

এরপর পদযাত্রা রামগতি-লক্ষ্মীপুর সড়কের আধুনিক হাসপাতাল এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

এ সময় বিএনপির হামলায় লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) মো. সোহেল রানা, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোসলেহ উদ্দিন, শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ও কয়েকজন কর্মকর্তাসহ অন্তত জেলা পুলিশের ৩০ জন সদস্য আহত হন বলে দাবি পুলিশের। অন্যদিকে পুলিশের টিয়ারসেল ও শটগানের গুলিতে বিএনপির ৭০ থেকে ৮০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে বলে জানা যায়। 

ঘটনার পর পৃথক পৃথক সংবাদ সম্মেলন করেছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও পুলিশ।