দৈনিক ১ হাজার ৭০০ টন সার উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে ১৯৯১ সালে যাত্রা শুরু করে যমুনা সার কারখানা। তবে বেশ কয়েক বছর ধরে গ্যাসস্বল্পতা ও কারিগরি ত্রুটির কারণে সার উৎপাদন নেমে আসে দৈনিক ১ হাজার ২০০ টনে। গ্যাস সংকটে গত বছরের ১৫ জানুয়ারি উৎপাদন বন্ধ করে দেয় কারখানা কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ ১৩ মাস বন্ধ থাকার পর পুনরায় চালু হয়েছে জামালপুরের এ কারখানা। শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে ফায়ারিংয়ের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে উৎপাদনে ফেরে দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কারখানার মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন।
কারখানা সূত্রে জানা গেছে, যমুনা সার কারখানা প্রতিষ্ঠার পর এবারই প্রথম এত দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ ছিল। সর্বশেষ কারখানাটি ২০২৩ সালে একটানা ৭২ দিন বন্ধ থাকার পর ওই বছরের ১৭ নভেম্বর চালু হয়েছিল। কিন্তু উৎপাদনে থাকা অবস্থায় ৬০ দিনের মাথায় অর্থাৎ ২০২৪ সালের ১৫ জানুয়ারি গ্যাস সংকটে কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কারখানায় নিরবচ্ছিন্নভাবে উৎপাদনের জন্য দৈনিক ৪২-৪৩ পিএসআই গ্যাসের চাপের প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) তালিকাভুক্ত ১ হাজার ৯০০ ডিলারের মাধ্যমে জামালপুর, শেরপুর, টাঙ্গাইল, উত্তরাঞ্চলের কমান্ড এরিয়াসহ ২১টি জেলার ১৬২ উপজেলায় কৃষকের কাছে সার সরবরাহ করা হতো কারখানা থেকে। কারখানা বন্ধ থাকাকালীন আমদানি করে ও দেশের অভ্যন্তরের অন্য সার কারখানায় উৎপাদিত ইউরিয়া সার ডিলারদের মাধ্যমে সরবরাহ করা হতো। তবে কৃষকদের মাঝে এসব সারের চাহিদা কম থাকায় ডিলাররা পড়েন বিপাকে। গত এক বছরে কারখানাটি চালুর দাবিতে বেশ কয়েক দফা আন্দোলন করেছেন শ্রমিক ও স্থানীয়রা।
যমুনা সার কারখানা শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যমুনা সার কারখানায় গ্যাস সংযোগ দেয়ায় এ অঞ্চলের কৃষক স্বস্তি পেয়েছেন। গ্যাস সংযোগ দেয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। কারখানা চালু রাখলে সার আমদানিনির্ভরতা থেকে সরে দেশীয় শিল্পকে সচল রাখলে রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে।’
কারখানার মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন জানান, গ্যাস সংকটের কারণে গত বছরের ১৫ জানুয়ারি থেকে কারখানায় ইউরিয়া সার উৎপাদন বন্ধ ছিল। বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ শুরু করে। শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় সার উৎপাদন প্লান্টের চুল্লিতে গ্যাস সংযোগ দেয়া হয়, যাকে ‘ফায়ারিং’ বলে। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সার উৎপাদন শুরু হয়েছে। উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে প্রতিদিন ৪২-৪৩ পিএসআই গ্যাসের প্রয়োজন হয়। সার উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কোনো যান্ত্রিক বা কারিগরি ত্রুটি দেখা না দিলে এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্যাস সরবরাহ থাকলে পুরোদমে সার উৎপাদন শুরু হতে ১০-১২ দিন সময় লাগবে।










