পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানকে সংযুক্ত করছে চট্টগ্রামের কাপ্তাই আঞ্চলিক সড়ক। সম্প্রতি সড়কটি সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়েছে। তবে দুই সংস্থার সমন্বয়হীনতার কারণে বিলম্বিত হচ্ছে সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ। একাধিকবার সময় বাড়ানো হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এখনো কাজ শেষ করতে পারেনি। তাদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিভাগকে অর্থ পরিশোধ করা হলেও শতাধিক বৈদ্যুতিক খুঁটি সরিয়ে নেয়নি তারা। ফলে সম্প্রসারণকৃত সড়কের মধ্যে বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, ই-জিপি সার্ভারের আপডেটের কারণে দরপত্র আহ্বান করা যাচ্ছে না, তাই খুঁটি সরানোর প্রক্রিয়াও আটকে রয়েছে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ থেকে বিলম্বে অর্থ পরিশোধকে দায়ী করেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, চট্টগ্রাম দক্ষিণাঞ্চল কর্তৃপক্ষ।
সওজ সূত্রে জানা গেছে, সাড়ে ১৩ কিলোমিটার সড়ক সম্প্রসারণের জন্য দুটি প্যাকেজে ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। তবে কাজ শুরু করতে বিলম্ব, যথাযথ উচ্ছেদ কার্যক্রম না হওয়া এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণে সমস্যা প্রকল্পের গতিকে ব্যাহত করছে। বিশেষ করে অধিকৃত ভূমি থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ এবং বিদ্যুৎ বিভাগের খুঁটি সরানোর বিলম্ব প্রকল্পের কাজকে দীর্ঘায়িত করছে। ফলে গত ৩০ জুন মেয়াদ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত প্রকল্পের অর্ধেক কাজও শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, মোহরা রাস্তার মাথা থেকে মদুনাঘাট সেতুর হাটহাজারী প্রান্ত পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার সড়ক ৩৪ ফুট প্রস্থে উন্নীত করা হবে। এ অংশের কাজের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে ২২ কোটি ৩৩ লাখ টাকায়। অন্যদিকে মদুনাঘাট সেতুর রাউজান প্রান্ত থেকে নোয়াপাড়ার গশ্চি ধরের-টেক পর্যন্ত বাকি আট কিলোমিটার সড়ক ৩০ ফুট প্রস্থে উন্নীত করা হবে। এর জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সওজের চুক্তি হয়েছে ২৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকায়।
সওজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৩ কিলোমিটার সড়ক সম্প্রসারণ এলাকায় সওজের ভূমিতে ১১৪টি বৈদ্যুতিক খুঁটি রয়েছে। দুই মাস আগে বিদ্যুৎ বিভাগকে প্রায় ৩ কোটি টাকা পরিশোধ করা হলেও দরপত্র আহ্বানের জটিলতার কারণে খুঁটিগুলো এখনো অপসারণ করা হয়নি।
সড়কটির চট্টগ্রাম-কাপ্তাইমুখী অংশের ডান পাশে ১০৫ ফুট এবং বাম পাশে ৭৫ ফুট ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। গত জানুয়ারি থেকে সড়ক সম্প্রসারণকাজ শুরু হলেও সওজের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা হয়নি। ফলে সড়কের কিছু অংশের কাজই শুরু করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
সওজ চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মোসলেহউদ্দীন চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমরা বৈদ্যুতিক খুঁটি সরাতে পিডিবিকে প্রয়োজনীয় অর্থ পরিশোধ করেছি। বৈদ্যুতিক খুঁটি সরানোর পর ওই অংশের সম্প্রসারণকাজও সম্পূর্ণ করা হবে।’
সড়ক সম্প্রসারণের ধীরগতি এবং কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ না করার বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইয়াকুব ব্রাদার্স ও মেসার্স আবদুস সালাম কন্সট্রাকশনের পরিচালক মো. শাহজাহান সিরাজ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘উচ্ছেদ এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণে বিলম্বের কারণে আমরা দীর্ঘ সময় কাজ করতে পারিনি। বৈদ্যুতিক খুঁটি সরানো না হওয়ায় আমরা খুঁটি রেখেই সম্প্রসারণকাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’
পিডিবি চট্টগ্রাম দক্ষিণাঞ্চলের মোহরা সাবস্টেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কেনোয়ার হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমরা অনেক আগেই বৈদ্যুতিক খুঁটি সরানোর জন্য সওজকে বাজেট জানিয়েছি। কিন্তু তারা অনেক বিলম্বে অর্থ পরিশোধ করেছে।’










