জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘কোনো জালিয়াত, ভোটচোর, অবৈধ ইঞ্জিনিয়ার যেন জনগণের কপাল নিয়ে খেলতে না পারে, তা রুখে দিতে হবে। এখন থেকে পাহারাদারি শুরু করতে হবে। বিজয়ের মালা গলে পরিয়ে দিয়ে তারপর আপনারা ঘরে ফিরবেন।’ রাজধানীর মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে গতকাল ঢাকা-১৩ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকের নির্বাচনী সমাবেশে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
একটি পক্ষ হেরে যাওয়ার ভয়ে হতাশ হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বহু জায়গায় দেখতে পাচ্ছি, একটা পক্ষ নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ভয়ে একেবারেই হতাশ হয়ে পড়েছে। সেই হতাশা থেকে তারা এখন চোরাই পথে নির্বাচনকে হাইজ্যাক করার চিন্তা করছে। গুণ্ডাদের লেলিয়ে দেয়া হচ্ছে। অস্ত্রের ভাণ্ডার গড়ে তোলা হয়েছে। ভোট কেন্দ্র অন্যায়ভাবে দখল করে মানুষের ভোট কেড়ে নেয়ার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। কিন্তু স্পষ্টভাবে বলে দিচ্ছি, জুলাই যোদ্ধারা ঘুমিয়ে পড়ে নাই। তারা এখনো জেগে আছে। সব অপকর্ম আমরা প্রতিহত করে দেব। জনগণের ভোট আবার কেউ ছিনতাই করবেন—এ দুঃসাহস দেখাবেন না।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কোনো ব্যক্তি, পরিবার, গোষ্ঠীর পক্ষেই নির্বাচনে নামিনি। ১৮ কোটি মানুষের পক্ষে নেমেছি। স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছি, নির্বাচিত হলে আমরা কোনো দলীয় সরকার কায়েম করব না। আমরা জনগণের সরকার কায়েম করব। এও ঘোষণা দিয়েছি, আমরা নির্দিষ্ট কোনো দলের বিজয় চাই না। আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। ১৮ কোটি মানুষের বিজয় অর্জন হলেই এটি হবে আমাদের মহাবিজয়।’
ঢাকা-১৩ আসনে মামুনুল হকের নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা মাহফুজুল হকের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, যিনি ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী।
জামায়াত আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা একত্র হয়েছি জুলাই যোদ্ধাদের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে। আমরা একত্র হয়েছি একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে। যেই স্বপ্ন এ দেশের ১৮ কোটি মানুষ এখন লালন করে। আমাদের এই একত্র হওয়া চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, মামলাবাজ এবং সব ধরনের অপরাধজগতের যারা কারিগর, তাদের বিরুদ্ধে। জনগণ যখন ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, তখন জনতারই বিজয় হবে।’
ঢাকা-১৩ একটি মর্যাদাপূর্ণ আসন বলে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, কিছু অসৎ লোক এ এলাকাকে বিভিন্নভাবে জর্জরিত করে রেখেছে। এখানে ব্যাপক হারে বেপরোয়া চাঁদাবাজি চলে। এখানে মাদকের রমরমা ব্যবসা চলে। এখানে আমাদের বুকের সন্তানদের ভুল বুঝিয়ে, বিপথগামী করে তাদের দিয়ে অস্ত্রবাজি করা হয়। দখলবাজিতে নামানো হয়। এখানে মামলা বাণিজ্য হয়েছে। আমরা যেসব সন্তানকে বিপথগামী করা হয়েছে, তাদের বুকে টেনে নিয়ে সংশোধন করে মর্যাদাবান নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলব।’
ভোট কেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে প্রবেশে নির্বাচন কমিশনের নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে, জুলাইতে যখন আন্দোলন শুরু হয়, তখনো কিন্তু ইন্টারনেট কেড়ে নেয়া হয়েছিল, যাতে অপরাধ গোপন করা যায়, যাতে খুনকে বৈধতা দেয়া যায়। আবার আমরা দেখতে পাচ্ছি, কার ইশারায় কেন সেই একই অন্ধকার গলিপথে নির্বাচন কমিশন হাঁটার চেষ্টা করছে?’
আমলা ও সচিবদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, ‘সরকারের কিছু আমলা, সচিব, কিছু অসৎ লোক এখনো দলবাজি করছেন। বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন প্রার্থীকে জিতিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। প্রার্থী জিতবে বা পরাজিত হবে, সেটা নির্ধারিত হবে জনগণের ভোটে। আপনাকে কে এ দায়িত্ব দিয়েছে? মনে রাখবেন, ক্ষমা বারবার পাবেন না। অপরাধ করে অতীতে ক্ষমা পেয়েছেন, আগামীতে সেই ক্ষমা করা হবে না।’













