আসন্ন নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব অ্যাডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক। আসন্ন নির্বাচন ও স্থানীয় জনসাধারণের প্রতি তার অঙ্গীকারের বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে

নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সিদ্ধান্ত নিলেন কেন?

এবারের নির্বাচনে হিন্দু মহাজোটের আর কেউ প্রার্থী হয়নি। নানা ভয়ভীতি-শঙ্কা কাজ করে। অর্থনৈতিক ব্যাপার আছে। এটি সনাতন ধর্মাবলম্বীপ্রধান এলাকা। সনাতন ধর্মাবলম্বীরাই আমাকে প্রার্থী হতে বলেছে। তাদের ভয়ভীতি কাটাতে শেষ পর্যন্ত আমি নিজেই এ আসনে প্রার্থী হয়েছি। আমি প্রার্থী হওয়ায় তাদের ভয়ভীতি অনেকটাই কেটেছে। আমার প্রত্যাশা থাকবে, সারা বাংলাদেশে যারা সংখ্যালঘু; তারা যেন ভোট দিতে আসেন। ভোট গ্রহণ যাতে উৎসবমুখর পরিবেশে হয়। বিএনপি-জামায়াত কেউই সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এজন্য আমরা চেয়েছি সংখ্যালঘুরা যেন সব জায়গায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

নিজ এলাকার ভোটারদের প্রতি আপনার প্রতিশ্রুতিগুলো সম্পর্কে বলুন।

টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া কৃষি ও মৎস্য চাষনির্ভর এলাকা। এখানকার কৃষি ও মৎস্য খাতের উন্নয়নে সুদবিহীন ঋণের পাশাপাশি বিনামূল্যে সার-সেচ-কীটনাশকসহ সব উপকরণ সরবরাহ করতে চাই। বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থার সহায়তায় এটি দেয়ার ব্যবস্থা করব, যাতে এখানকার কৃষক ও মৎস্যজীবীরা ঋণগ্রস্ত না হয়ে স্বাধীনভাবে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বাড়াতে পারেন। নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে পারবেন। এতে দেশের সমৃদ্ধি আসবে। এ এলাকার সুপেয় পানির সমস্যা সমাধানে গভীর নলকূপ স্থাপনসহ পাইপলাইনে নিরাপদ পানি সরবরাহের উদ্যোগ নেয়া হবে। দুই উপজেলার সব মানুষকে নিরাপদ পানি সরবরাহের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

এখানকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দেশসেরা হিসেবে গড়ে তুলতে উদ্যোগ নেয়া হবে। শিক্ষকদের প্রাপ্য মর্যাদা নিশ্চিতের পাশাপাশি অবকাঠামোসহ সব ক্ষেত্রে উন্নয়ন ও সমন্বয় করে শিক্ষার গুণগত পরিবর্তন ঘটাব। আর চিকিৎসার জন্য এলাকার মানুষকে যাতে ঢাকা যেতে না হয়, সেজন্য দুই উপজেলায় হাসপাতাল করা হবে। প্রত্যেক ইউনিয়নে স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ে তুলব। মানুষ যাতে প্রয়োজনমতো স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে পারেন। এখানে ভালো মানের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়ে আসা ও তাদের ধরে রাখার ব্যবস্থা করব। খাল, বিল, পুকুরের পাশে বাঁধ দিয়ে টেকসই রাস্তা করব, যাতে প্রতি বছর সংস্কার করতে গিয়ে টাকা নষ্ট না হয়।

আমি এখানকার উন্নয়ন কার্যক্রম থেকে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকে বাদ দিতে চাই না। সবাই স্বাধীনভাবে এখানে রাজনীতি করতে পারবে। আমি এখানে দুটি উন্নয়ন কমিটি করব। একটি কোটালীপাড়া উন্নয়ন কমিটি। অন্যটি টুঙ্গিপাড়া উন্নয়ন কমিটি। সেখানে মানবাধিকার কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক, ছাত্র-যুবক, নারী, অধ্যাপক, আইনজীবীসহ সবাইকে সম্পৃক্ত করে একটি টিম তৈরি করব। তারাই সিদ্ধান্ত নেবেন, কী কী কাজ করতে হবে। সে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করাই হবে আমার কাজ।

ভোটারের উদ্দেশে আপনার কোনো বার্তা?

আমি কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা নই। এ আসন জনগণের আমানত। জনগণের বিশ্বাসের জায়গা। জনগণ আমাকে দায়িত্ব দিলে তাদের কথাগুলো জাতীয় সংসদসহ দেশের মানুষের কাছে উপস্থাপন করতে পারি। রাষ্ট্রের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা ও দাবি আদায়ে সচেষ্ট থাকব। আমার কাছে জনগণের কথা উপেক্ষিত হবে না। আমি জনগণের কথাকেই প্রাধান্য দেব। কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী নই। তাই আমার ওপরে কোনো বস নেই। আমার বস হচ্ছে এলাকার জনগণ। এলাকার জনগণের উন্নয়নই হলো আমার প্রথম কাজ। আপনারা ভোট দিয়ে আমার প্রতি যে দায়িত্ব অর্পণ করবেন, সে দায়িত্ব আমি সর্বদা পালন করে যাব।