দেশীয় জ্বালানি সম্পদ মাটির নিচে রেখে আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে দেশের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, আমরা দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই চুক্তিতে স্বাক্ষর করব।

আজ রোববার রাজধানীতে বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রথম সফল বিডিং রাউন্ড অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯৩ সালে। সে সময় স্থল ও সমুদ্র এলাকার আটটি ব্লকের জন্য আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর সঙ্গে পিএসসি চুক্তি হয়। এর মাধ্যমে দেশের অন্যতম বৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানা এবং সমুদ্রের প্রথম বাণিজ্যিক গ্যাসক্ষেত্র সাঙ্গু আবিষ্কৃত হয়। এসব গ্যাসক্ষেত্র দ্রুত উৎপাদনে আসায় দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

তিনি বলেন, সরকার দেশীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণেও গুরুত্ব দিচ্ছে। সমুদ্রাঞ্চলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান জটিল ও ব্যয়বহুল হওয়ায় আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

জ্বালানি মন্ত্রী জানান, সরকারের নির্বাচনী ইশতাহারে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। দায়িত্ব নেয়ার পর কর্মকর্তাদের ১০০ দিনের মধ্যে অফশোর বিডিং রাউন্ড আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা দেয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সংশোধিত অফশোর মডেল পিএসসি-২০২৬ চূড়ান্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিনিয়োগ আকর্ষণে চুক্তির কিছু বিধান সংশোধন ও সংযোজন করা হয়েছে। তবে দেশের স্বার্থ রক্ষাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, জ্বালানি খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। সে উদ্দেশ্যে দেশের সম্ভাবনাময় জ্বালানি সম্পদ অনুসন্ধানে জোর দেয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অফশোর মডেল পিএসসি-২০২৬ এবং অফশোর বিডিং রাউন্ড-২০২৬-এর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়। নতুন পিএসসিতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে বিনিয়োগবান্ধব নানা সুবিধা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে তৃতীয় পক্ষের কাছে গ্যাস বিক্রি, নির্দিষ্ট শর্তে গ্যাস রফতানি, পাইপলাইন বিনিয়োগে ট্যারিফ সুবিধা এবং বিনিয়োগ সুরক্ষায় বিশেষ বিধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

জ্বালানি বিভাগ জানায়, অফশোর বিডিং রাউন্ড-২০২৬-এর আওতায় মোট ২৬টি ব্লক উন্মুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি অগভীর সমুদ্র এবং ১৫টি গভীর সমুদ্র ব্লক। বিনিয়োগকারীদের জন্য তথ্য ও ডাটা প্যাকেজ সংগ্রহের সুবিধাও রাখা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।