সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থী বুলবুল হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। তাদের দাবি, গ্রেফতারকৃত তিন ছিনতাইকারী বুলবুল হত্যাকাণ্ডে জড়িত। অন্যদিকে গ্রেফতার তিনজনের মধ্যে কামরুল নামের একজনের বসতঘর থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহূত ছুরি ও নিহত বুলবুলের মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বিকালে জালালাবাদ থানায় প্রেস ব্রিফিংয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার আজবাহার আলী শেখ এ তথ্য জানান। গ্রেফতারকৃতরা হলেন কামরুল ইসলাম (২২), আবুল
হোসেন (১৮) ও মোহাম্মদ হাসান (১৮)। তাদের সবার বাড়ি বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর সংলগ্ন টিলারগাঁও এলাকায়।
পুলিশের উপকমিশনার আজবাহার আলী শেখ জানান, ঘটনার দিন রাতেই প্রথমে আবুল হোসেনকে আটক করা হয়। এরপর তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী রাতে কামরুলকে গ্রেফতার করা হয়। পরে মোহাম্মদ হাসানকে গ্রেফতার করা হয়। এ তিনজনকে আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। এরপর গতকাল বেলা ১১টায় অভিযুক্ত কামরুলকে সঙ্গে নিয়ে টিলারগাঁও এলাকায় তার বাড়িতে যায় পুলিশ। এ সময় কামরুলের ঘরের সানশেডের ভেতর থেকে একটি ছুরি ও নিহত বুলবুলের ব্যবহূত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। তবে কেন বুলবুলকে হত্যা করেছে, তাদের কী উদ্দেশ্য ছিল, মূল মোটিভ ছিল কী, আরো কেউ জড়িত কিনা, কার সম্পৃক্ততা কতটুকু, শুধু ছিনতাই ছাড়া আর কিছু ছিল কিনা বিস্তারিত তদন্ত সাপেক্ষে পরে জানানো হবে।
অন্যদিকে গত মঙ্গলবার হত্যাকাণ্ডের একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী নিহত বুলবুলের বান্ধবী মারজিয়া আক্তার উর্মির হাসপাতাল থেকে চুপিসারে চলে যাওয়া নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। পুলিশ একপর্যায়ে সিলেট শহরতলির বাদাঘাট এলাকায় তার সন্ধান পায়। এরপর ঘটনার মোড় অন্যদিকে যেতে থাকে। মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে উর্মিকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। এরপর ঘটনাস্থলে তাকে কিছুক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করার পর প্রক্টরের রুমে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে পুলিশ হেফাজত থেকে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরামর্শকের জিম্মায় দেয়া হয়।
তখন শিক্ষার্থীর বরাত দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক আমিনা পারভীন সাংবাদিকদের বলেন, উর্মির দাবি, বুলবুল ও সে ঘটনাস্থলে বসে ছিলেন। হঠাৎ করে মাস্ক পরা তিন ব্যক্তি সেখানে আসেন। তারা এসে বুলবুলকে একটু দূরে সরিয়ে নিয়ে যান। এ সময় উর্মি অন্যদিকে তাকিয়ে আশপাশে কেউ আছে কিনা দেখতে থাকে বুলবুলকে বাঁচাতে। দুর্বৃত্তরা বুলবুলকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। তখন সে হামলাকারীদের চিনতে পারেনি।
নিহত বুলবুলের বান্ধবী মারজিয়া আক্তার উর্মি হাসপাতাল থেকে চুপিসারে যাওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার আজবাহার আলী শেখ আরো জানান, উর্মির হাসপাতাল থেকে চলে যাওয়ার পর আমরা তাকে খুঁজে পাই। এরপর উর্মি বলেছেন, তিনি জানতে পেরেছেন বুলবুল আহমেদের জানাজা ক্যাম্পাসে হবে। সেখানে অংশ নেয়ার জন্য তিনি হাসপাতাল থেকে চলে গিয়েছিলেন। তিনি আসলে বুলবুলের মৃত্যু মেনে নিতে পারেননি, যার জন্য আপসেট ছিলেন।
অন্যদিকে ছুরিকাঘাতে নিহত শিক্ষার্থী বুলবুল আহমেদের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল থেকে আগামী সপ্তাহেই বুলবুলের পরিবারের কাছে টাকা পৌঁছে দেয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। গতকাল দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দেন উপাচার্য।
গত সোমবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে মেয়েদের আবাসিক হলের পার্শ্ববর্তী গাজিকালুর টিলায় বান্ধবীকে নিয়ে অবস্থান করছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বুলবুল আহমেদ। এ সময় তিনি দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন।










