কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একে অন্যের সঙ্গে কুশল বিনিময়, ঈদের শুভেচ্ছা ও অভিজ্ঞতা ভাগাভাগিতে সময় কাটিয়েছেন। ফলে দিনের প্রথম ভাগে প্রশাসনের কেন্দ্রস্থল সচিবালয়ে ছিল কিছুটা উৎসবমুখর পরিবেশ।

গতকাল সকালে সচিবালয়ের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কার্যালয় ঘুরে দেখা যায়, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ধীরে ধীরে কর্মস্থলে ফিরছেন। কেউ গ্রামের বাড়ি থেকে ফিরেছেন, কেউ আবার পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের গল্প শোনাচ্ছেন সহকর্মীদের। অফিস কক্ষগুলোতে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি মিষ্টিমুখ ও আপ্যায়নের আয়োজনও দেখা গেছে।

এদিন সচিবালয়ের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন ভবন ঘুরে দেখা যায়, অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী এখনো ছুটিতে রয়েছেন।

ফলে বেশকিছু কক্ষে নির্ধারিত সংখ্যার তুলনায় উপস্থিতি ছিল অনেক কম। কোনো কোনো কক্ষ ছিল একেবারেই ফাঁকা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল ৯টার কিছু পর সচিবালয়ে প্রবেশ করেন। সকালেই সচিবালয়ে প্রবেশ করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন ও প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীসহ কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী।

সকালের দিকে সচিবালয়ের প্রবেশপথে অন্যান্য দিনের তুলনায় জনসমাগম কিছুটা কম ছিল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি বাড়ে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে নিয়মিত কার্যক্রমও শুরু হয়। গুরুত্বপূর্ণ নথি নিষ্পত্তি, সভা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পুনরায় সচল হতে দেখা যায়।

সচিবালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘ ছুটির পর কর্মস্থলে ফিরে সহকর্মীদের সঙ্গে দেখা হওয়ায় কর্মপরিবেশে ভিন্ন ধরনের প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ছুটিকালীন জমে থাকা কাজ দ্রুত নিষ্পত্তির প্রস্তুতিও নেয়া হচ্ছে।

এদিকে সচিবালয়ে আসা সেবাপ্রার্থীর সংখ্যাও দিনের প্রথম ভাগে তুলনামূলক কম ছিল। অনেকেই ধারণা করছেন, ছুটির পরের কয়েক দিনের মধ্যে সরকারি দপ্তরগুলোতে স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য পুরোপুরি ফিরে আসবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঈদের ছুটি শেষে সরকারি প্রশাসনের সব স্তরে কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে শুরু হয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে চলমান প্রকল্প, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং নীতিনির্ধারণী কাজগুলোও নতুন উদ্যমে এগিয়ে নেয়ার প্রস্তুতি চলছে।

ছুটির আমেজ পুরোপুরি কাটতে কিছুটা সময় লাগলেও প্রথম কর্মদিবসেই সচিবালয়ে কর্মব্যস্ততা ও উৎসব-পরবর্তী উচ্ছ্বাসের মিশেলে তৈরি হয়েছে এক ভিন্ন পরিবেশ। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি ও কার্যক্রমের গতি দেখে প্রশাসনের কেন্দ্রস্থল সচিবালয় আবারো স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করেছে।

গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দেশে মুসলমানদের দ্বিতীয় বড় ধর্ম উৎসব ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপিত হয়। ঈদ উপলক্ষে ২৫ মে শুরু হয় সরকারি চাকরিজীবীদের টানা সাতদিনের ছুটি। ছুটি শেষ হয় রোববার (৩১ মে)।