বিদ্যমান কর ব্যবস্থার ফাঁকফোকর বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় বাজেট ভাবনা শীর্ষক মত বিনিময় সভায়। একই সঙ্গে অন্যায্যভাবে এসআরও ইস্যু করে ট্যাক্স মওকুফ বন্ধ করা দাবি ওঠে আসে। এতে বর্তমান করের হার না বাড়িয়েই অতিরিক্ত ২ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় সম্ভব বলে জানানো হয় আয়োজনের মূল প্রবন্ধে।

আজ সকালে রাজধানীর ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) অডিটোরিয়ামে অর্থনৈতিক সাংবাদিকদের সঙ্গে ‘জাতীয় বাজেট ভাবনা' শীর্ষক এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের ডিন প্রফেসর ড. একেএম ওয়ারেসুল করিম। এছাড়া বক্তব্য দেন চাপাইনবয়াবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী, সংরক্ষিত সংসদ সদস্য ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নিসা সিদ্দিকা, সাবেক সিনিয়র সচিব ড. খ ম কবিরুল ইসলাম এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান।

মূল প্রবন্ধে ড. একেএম ওয়ারেসুল করিম বলেন, বাংলাদেশে বিদ্যমান কর ব্যবস্থার ফাঁকফোকর বন্ধ এবং অন্যায্যভাবে এসআরও ইস্যু করে ট্যাক্স মওকুফ দেওয়া বন্ধ করা গেলে বর্তমান করের হার না বাড়িয়েই অতিরিক্ত ২ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় সম্ভব।

তিনি উদাাহারণ দিয়ে বলেন, চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের অনেক ব্যবসায়ী দৈনিক ১ কোটি টাকা বিক্রি করলেও বছরে মাত্র ১০ হাজার টাকা ট্যাক্স দিচ্ছেন। এছাড়া অলাভজনক অজুহাতে আন্তর্জাতিক স্কুলগুলো সেমিস্টার প্রতি ১৬-২০ হাজার ডলার টিউশন ফি এবং ৩০ লাখ টাকা ভর্তি ফি নিয়েও কর ফাঁকি দিচ্ছে।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, দেশের বড় বড় প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত না থাকায় সামান্য কিছু টাকার বিনিময়ে নামমাত্র অডিট করিয়ে নিজেদের প্রকৃত বিক্রির তথ্য সম্পূর্ণ গায়েব করে দিচ্ছে।

এনবিআরের কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে দেশ পরোক্ষ করের ওপর মারাত্মকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে মন্তব্য করেন ড. একেএম ওয়ারেসুল করিম। তিনি বলেন, ওইসিডি দেশগুলোতে যেখানে পরোক্ষ করের গড় হার ২৮ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রে ১৭ শতাংশ, সেখানে বাংলাদেশে তা প্রায় ৭৮ দশমিক ২ শতাংশ। এ কর ব্যবস্থাকে ‘অত্যন্ত রিগ্রেসিভ’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ভ্যাটের এই বিশাল বোঝা ধনীদের চেয়ে দরিদ্র ও মধ্যবিত্তের ওপর বেশি পড়ছে, যা সামাজিক অসমতা বাড়াচ্ছে।

মূল প্রবন্ধে উপস্থাপিত প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে রয়েছে—নূন্যতম করমুক্ত আয়ের সীমা পর্যায়ক্রমে ৬ লাখ টাকায় উন্নীতকরণ, অগ্রিম আয়কর বাতিল এবং ব্যক্তি ও করপোরেট করের হার সর্বোচ্চ ১৯ শতাংশতে নামিয়ে আনা। এছাড়া প্রতিটি নাগরিকের এনআইডি-কে টিআইএন হিসেবে রূপান্তর করে 'স্মার্ট সোশ্যাল আইডি' চালু করারও প্রস্তাব দেওয়া হয়।

​মূল প্রবন্ধে এনবিআরের জন্য স্বাধীন ক্যাডার সার্ভিস গঠন, পাঁচ বছরের নিচে ও ৬০ বছরের ঊর্ধ্বের নাগরিকদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা, ১৩ লাখ যুবকের দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ১ লাখ কোটি টাকার শিক্ষা ঋণ চালুর দাবি জানানো হয়।