গত কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর বিকল্প পথে ঝুঁকি নিয়ে ৪টি ট্রলারে করে সেন্টমার্টিন থেকে টেকনাফে ফিরেছে দুই শতাধিক হোটেল কর্মী, শ্রমিক ও বিভিন্ন কাজে গিয়ে আটকা পড়া আড়াই শতাধিক মানুষ।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সেন্টমার্টিন জেটি ঘাট থেকে ৪টি ট্রলার টেকনাফের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে আড়াইটায় টেকনাফ পয়েন্টে পৌছে। অন্যদিকে গোলাগুলি অব্যাহত থাকায় সেন্টমার্টিনবাসীর জন্য জেলা প্রশাসনের খাদ্যসামগ্রী বহনকারী নৌযান যেতে পারেনি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরী জানান, ঈদের ছুটি বা বিভিন্ন কাজে গিয়ে আটকা পড়া লোকজনকে নিয়ে চারটি ট্রলার রওনা হয়। ট্রলারগুলো মূলত বঙ্গোপসাগর হয়ে টেকনাফে পৌছে।

তিনি জানান, খাদ্য সামগ্রী নিয়ে টেকনাফ থেকে নৌযান সেন্টমার্টিন যাবার কথা ছিল সেটি যেতে পারেনি। কারণ গতকাল থেকে নাফ নদের একটি এলাকায় ব্যাপক গোলার শব্দ শোনা যাচ্ছে। বিকল্প পথে হয়তো আগামীকাল কক্সবাজার থেকে এ খাদ্য সামগ্রী পৌঁছাতে পারে।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, গত কয়েকদিন ধরে এসব হোটেল কর্মী, কাজ করতে আসা শ্রমিক ও বিভিন্ন কাজে সেন্টমার্টিনে এসে আটকা পড়া এসব মানুষকে বিশেষ ব্যবস্থায় বিকল্প পথে ফেরানো হচ্ছে টেকনাফে। সময় যত যাচ্ছে ততই অনিশ্চয়তা বাড়ছে দ্বীপের মানুষের মাঝে। খাদ্য সহায়তা খুবই প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে শাহপরীর দ্বীপ সীমান্তে গোলার বিকট শব্দের বিষয়টি নিশ্চিত করে ইউপি সদস্য খোরশেদ আলম বলেন, নাফ নদীর মোহনা ও সীমান্তে রাতে-সকালে খুব বেশি গুলির শব্দ শোনা গেছে। এখানে নাফ নদ থাকায় আমরা গোলার শব্দ শুনলেও ঠিক ওপারে কোন এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে সেটি বলা মুশকিল। আজকে অনেক ঝুঁকি নিয়ে ৪টি ট্রলার করে প্রায় ২৭০ জনের মতো লোক আসছে। বঙ্গোপসাগরে বড় বড় ঢেউয়ে অনেক ঝুঁকি ছিল। ট্রলারের অনেকে বমি করেছে। টেকনাফ ঘাটে এসে হয়রানিরও শিকার হচ্ছে মানুষ। এখন সেন্টমার্টিন যাওয়ার জন্য টেকনাফে অবস্থানরত কেউ যেতে পারবে বলে মনে হচ্ছে না। সাগর অনেক উত্তাল রয়েছে।

সেন্টমার্টিন থেকে ট্রলারে আসা অ্যাডভোকেট কেফায়েত উল্লাহ জানান, জীবন নিয়ে ফিরে এসেছি এটাই আল্লাহর রহমত। বঙ্গোপসাগরের বড় বড় ঢেউয়ে জীবনের চরম ঝুঁকি অতিক্রম করেছি।

তিনি এরকম ট্রলারে করে কাউকে আসা যাওয়া না করার অনুরোধ জানান। প্রয়োজনে দ্বীপে থেকে মরে যাওয়াই ভালো হবে।

সীমান্তে দায়িত্বে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, হঠাৎ করে ফের মিয়ানমারের বিকট শব্দে এপারের মানুষজনের মাঝে আতঙ্ক বাড়ছে। আমরা জেনেছি ওপারে যুদ্ধ তীব্র হচ্ছে, ফলে সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ ঘটতে পারে তাই সীমান্তরক্ষীরা সর্তক অবস্থানে রয়েছে।

এদিকে মিয়ানমারে মংডুসহ কয়েকটি গ্রামে মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মির সঙ্গে দেশটির সেনাবাহিনীর তুমুল সংঘর্ষ চলছে। টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং থেকে শাহপরীরদ্বীপ পর্যন্ত ৫৪ কিলোমিটার নাফ নদীতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সদস্যরা দিনরাত নাফ নদী ও সীমান্ত সড়কে টহল বৃদ্ধি করেছে। সেটি চলমান এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে সব সময় প্রস্তুত বিজিবি ও কোস্টগার্ড।

এ বিষয়ে টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, সীমান্তে টহল জোরদারের পাশাপাশি রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ রোধে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি।