রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগ (৩৯) হত্যাকাণ্ডে মূল আসামিদের এখনো গ্রেফতার না করা এবং মামলার এজাহার থেকে মূল তিন আসামিকে বাদ দেয়া ‘রহস্যজনক’ বলে প্রশ্ন তুলেছে বিএনপির তিন সংগঠন। এ বিষয়ে যুবদলের সভাপতি এম মোনায়েম মুন্না বলেন, এই ঘটনায় যারা সরাসরি সংশ্লিষ্ট, ভিডিও ফুটেজ ও সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে যাদের দেখা গেছে, বিস্ময়করভাবে তাদের মামলার প্রধান আসামি করা হয়নি। যারা প্রাণঘাতী আঘাতগুলো করেছে তারা অদ্যাবধি গ্রেফতারও হয়নি। এর কারণ আমাদের বোধগম্য নয়।

শনিবার (১২ জুলাই) সকালে পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির তিন সংগঠন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং ছাত্রদলের পক্ষে তিনি এ মন্তব্য করেন।

যুবদল সভাপতি বলেন, গণমাধ্যমে মামলার এজহারে উল্লেখিত বাদীর মেয়ে বলেছেন, মামলার এজহারে খুনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত তিন খুনিকে পুলিশ কৌশলে বাদ দিয়ে নিরাপরাধ তিনজনকে আসামি করেছে। ঘটনার ৬০ ঘণ্টার বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও, খুনের প্রমাণাদি হাতে থাকার সত্ত্বেও অদ্যাবধি মূল আসামিদের গ্রেফতার করা গেলো না। এটা একটি বিরাট প্রশ্ন ও রহস্য।

মুন্না বলেন, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে আমরা মনে করছি, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। এখানে আমাদের যদি কোনো ধরনের সহযোগিতার প্রয়োজন হয়, আমরা তা করতে সর্বদা প্রস্তুত আছি।

তিনি বলেন, দেশের জনগণকে অনুরোধ করছি, আপনারা সতর্ক থাকুন। আইনশৃঙ্খলার নাজুক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো সুযোগসন্ধানী রাজনৈতিক দল বা অগণতান্ত্রিক শক্তি যাতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সেই বিষয়ে অনুগ্রহপূর্বক সতর্ক থাকুন।

গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, আপনাদের (গণমাধ্যম) মাধ্যমে আমরাও জানতে চাই, কারা কেনো এই তিন আসামিকে বাদ দিয়ে নতুন করে অন্য জনকে আসামি করল এটা আমরা জানতে চাই। আর ঘটনাটি বুধবারের। গতকাল শুক্রবার এই ঘটনা ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। দুই দিন আগের ঘটনা কেন দুইদিন পর প্রচার হলো, এর পেছনে কারা জড়িত সেটাও খুঁজে দেখা উচিত। আপনাদের মাধ্যমে দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে এই প্রশ্নটি দেখে এর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আমরা দাবি জানাচ্ছি।

পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে বুধবার এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে মাথা থেঁতলে হত্যা করা হয়। নৃশংস ওই হত্যাকাণ্ড এবং তার পরের ঘটনাপ্রবাহের বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরছে। সেসব দৃশ্য দেখে শিউরে উঠেছে মানুষ, তৈরি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল রাতে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল ৫ জনকে আজীবনের জন্য বহিস্কার করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানি, সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, যুব দলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, সিনিয়র সহসভাপতি রেজাউল করীম পল, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।