লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে আট বছরের শিশু নুসরাত নুশুকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় শাহ আলম ওরফে রুবেল (৩০) নামের এক যুবককে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ১ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়। গতকাল দুপুরে লক্ষ্মীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সিরাজুদ্দৌলাহ কুতুবী এ রায় দেন। মামলায় অন্য আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ কৌঁসুলি (পিপি) মো. আবুল বাশার রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রায়ের সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রুবেল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের পশ্চিম নোয়াগাঁও গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। নিহত শিশু নুসরাত আসামি রুবেলের পাশের বাড়ির কুয়েত প্রবাসী এরশাদ মিয়ার মেয়ে ও স্থানীয় ফয়েজে রাসূল নুরানী মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী।
আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৩ মার্চ দুপুরে শিশু নুসরাত নুশু (৮) নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের তিনদিন পর ২৬ মার্চ বেলা ১১টায় নুসরাতের বাড়ি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মপাড়া গ্রামের ঠাকুর বাড়ির ওয়াপদা খালে ভাসমান বস্তাবন্দি ও গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় শিশু নুসরাতের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে নুসরাতের মা রেহানা বেগম ও মামা জিয়া উদ্দিন মরদেহ শনাক্ত করেন। ময়নাতদন্তের পর জানা যায় নুসরাতকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ২৬ মার্চ রাতেই নিহত শিশুর মা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে রামগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন।
এ ঘটনায় সন্দেহ হলে পুলিশ রুবেলের বন্ধু নোয়াগাঁও বাজার কেবল অপারেটর ব্যবসায়ী বোরহান উদ্দিনকে আটক করলে বেরিয়ে আসে মূল রহস্য। বোরহান উদ্দিনের দেয়া তথ্যমতে, ওই বছরের ১ এপ্রিল মোবাইল ট্র্যাকিং করে রামগঞ্জ থানা পুলিশ ও খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ রুবেলকে গ্রেফতার করে। পরে রুবেলকে লক্ষ্মীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করলে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। এতে সে জানায়, ঘটনার দিন আইসক্রিম খাওয়ার লোভ দেখিয়ে শিশু নুসরাতকে ঘরে ডেকে নেয়ার পর গলা চেপে ধরে ধর্ষণ করা অবস্থায় শ্বাসরোধে তার মৃত্যু হয়।










