শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুরিকাঘাতে নিহত বুলবুল আহমেদের সঙ্গে থাকা বন্ধু মার্জিয়া আক্তার ঊর্মি কাউকে কিছু না বলে হাসপাতাল থেকে চলে গিয়েছেন। তিনি অসুস্থ অবস্থায় সিলেটের মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আজ মঙ্গলবার আনুমানিক বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পুলিশি প্রহরা ও সহপাঠীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলে যান তিনি। যদিও এক কিছু সময় পরই তাকে আটক করে পুলিশ।
সহপাঠীরা জানিয়েছেন, বিকেল পৌনে চারটার দিকে ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলে হাসপাতালে তার রুম থেকে বের হন। দীর্ঘ সময় রুমে ফিরে না আসায় তার রুমে থাকা সহপাঠীরা আশপাশে খুঁজে না পেয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানায়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পুলিশকে জানালে সংশ্লিষ্ট এলাকার ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরায় ধারণ হওয়া দৃশ্যে দেখা যায় উর্মি এক মোটরসাইকেল আরোহীর সঙ্গে করে সিলেট—সুনামগঞ্জ সড়ক ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে চলে যাচ্ছেন।
সিলেট মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ বলেন, বুলবুলের মরদেহ দেখে মূর্ছা যাওয়া ওই ছাত্রীকে আমরা হাসপাতালে ভর্তি করে পর্যবেক্ষণে রেখেছিলাম। আজ বিকেলে তিনি পালিয়ে যান। পরে নগরের উপকণ্ঠ বাদাঘাট থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের দিকে যাওয়ার পথে তাকে আটক করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আবু হেনা পহিল বলেন, হাসপাতাল থেকে ওই শিক্ষার্থী পালিয়ে গেছেন বলে জেনেছি। আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। শুনেছি তাকে আটক করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরের টিলায় ঘুরতে গিয়ে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে মারা যান লোকপ্রশাসন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বুলবুল। তার বাড়ি নরসিংদী জেলায়। তবে কে বা কারা তাকে ছুরিকাঘাত করেছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান চিকিৎসকরা। ঘটনার সময় তার সঙ্গে ছিলেন ঊর্মি। তিনি শারীরিকভাবে অক্ষত থাকলেও পরবর্তীতে অসুস্থ বোধ করায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। যেহেতু তিনি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তাই তাকে পুলিশি প্রহরায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।










