খুলনা বিভাগে নভেল করোনাভাইরাস ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। একের পর এক মৃত্যু ও শনাক্তের রেকর্ড ভাঙছে। এ বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এ সময়ে নতুন করে ১ হাজার ২৪৫ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর আগে গত মঙ্গলবার ৩২ জনের মৃত্যু হয়। গতকাল দুপুরে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক রাশেদা সুলতানা এ তথ্য জানিয়েছেন।
রাশেদা সুলতানা বলেন, ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের কুষ্টিয়ায় সাতজন ও যশোরে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া খুলনায় আটজন, বাগেরহাটে একজন, নড়াইলে তিনজন, মেহেরপুরে তিনজন, ঝিনাইদহে চারজন, সাতক্ষীরায় চারজন ও চুয়াডাঙ্গায় দুজন মারা গেছেন।
তিনি আরো বলেন, করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় মোট ৫৭ হাজার ৫২০ জনের ভাইরাসটির সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ে মারা গেছেন ১ হাজার ১০৫ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৮ হাজার ৯৩০ জন।
এদিকে খুলনা মেডিকেল কলেজের (খুমেক) আরটি পিসিআর ল্যাবে ‘দূষণ’
ছড়িয়ে পড়ায় গতকাল থেকে তিনদিনের জন্য বন্ধ রয়েছে করোনার নমুনা পরীক্ষা।
তবে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে থাকা রোগীদের নমুনা পরীক্ষার প্রয়োজন হলে খুলনা মেডিকেল কলেজের আরটি পিসিআর ল্যাব থেকে কিট, রি-এজেন্ট নিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিসিআর ল্যাবে শুধু পরীক্ষাগুলো করা হবে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিসিআর ল্যাবে একদিনে মাত্র ৯৪টি নমুনা পরীক্ষার সুযোগ রয়েছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা প্রতিরোধ ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনাবিষয়ক কমিটির সভাপতি এবং খুলনা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. মেহেদী নেওয়াজ এ তথ্য জানিয়েছেন।
ডা. মেহেদী বলেন, বুধবার প্রায় ৫৫০ নমুনা পরীক্ষার সময় দেখা যায় সবই পজিটিভ। এরপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ‘ল্যাব দূষণ’র বিষয়টি ধরা পড়লে গতকাল থেকে ল্যাবটির কার্যক্রম বন্ধ করে ‘দূষণমুক্ত’
করার সিদ্ধান্ত হয়।
মেহেদী আরো বলেন, পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষা স্বাভাবিক রাখতে হলে প্রতি মাসে অন্তত একবার ল্যাব ‘দূষণমুক্ত’
করা প্রয়োজন। কিন্তু গত বছরের ৭ এপ্রিল থেকে খুলনা মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবটি চালুর পর কখনো তা করা হয়নি। কেননা একবার ‘দূষণমুক্ত’
করতে হলে ল্যাব অন্তত দুদিন বন্ধ রাখতে হয়। কিন্তু ল্যাবটিতে প্রচুর চাপ ছিল। যে কারণে মাসে দুদিন বন্ধ রাখা সম্ভব হয়নি।
বুধবার যেসব নমুনা পরীক্ষার ফলাফল দেয়া সম্ভব হয়নি সেগুলোর জন্য আর নতুন করে নমুনা নেয়ার প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে মেহেদী বলেন, তাদের নমুনা যেহেতু রেখে দেয়া হয়েছিল, পরে ঢাকা থেকে অথবা এ ল্যাবটি পুনরায় চালু হলে পরীক্ষা করা হবে।
তবে পিসিআর ল্যাব বন্ধ থাকলেও খুলনাসহ জেলার অন্যান্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এন্টিজেন পরীক্ষা যথারীতি চালু রয়েছে বলে জানিয়েছেন খুলনার সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ।









