রাজশাহীতে দক্ষিণ কোরিয়াগামী এক ব্যক্তির সঙ্গে প্রতারণার চেষ্টায় জড়িত একটি চক্রের মূলহোতাকে হাতেনাতে ধরেছে বাংলাদেশ ওভারসিজ অ্যামপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) এবং রাজশাহী জেলা প্রশাসন। আজ দুপুরে জেলার নওদাপাড়ার আমচত্বর মোড় থেকে তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

আটককৃতের নাম আহসান হাবীব (৪০)। তিনি পবা থানার ঘোড়াহাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিরা পলাতক।

এর আগে, ২০২৪ সালের জানুয়ারির ২ তারিখে রাজশাহীর কাশিমপুর গ্রামের বাসিন্দা মেরাজ আলী (২১) সরকারিভাবে দক্ষিণ কোরিয়া যাওয়ার জন্য অনলাইনে আবেদন করেন। তিনি ভাষা পরীক্ষা, স্কিল টেস্ট ও মেডিকেল সম্পন্ন করে সফলভাবে রোস্টারভুক্ত হন। এই তথ্য কৌশলে সংগ্রহ করে প্রতারক চক্রের মূলহোতা আহসান হাবীব ও তার সহযোগীরা।

সংগ্রহীত তথ্যের ভিত্তিতে, গত ১৪ জুন আহসান হাবীব ভুক্তভোগী মেরাজের বাড়িতে গিয়ে কোরিয়ান একটি কোম্পানির ভুয়া কাগজ দেখিয়ে দাবি করে যে, ১৬ লক্ষ টাকা না দিলে তার ভিসা বাতিল করে দেওয়া হবে। এবং ভিসা প্রাপ্তির শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে তারা অগ্রিম ১ লক্ষ টাকা দাবি করে।

এতে মেরাজ আলীর সন্দেহ হলে তিনি ১৫ জুন ঢাকার ইস্কাটন গার্ডেনে অবস্থিত বোয়েসেল কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বোয়েসেল কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আশ্বস্ত করে যে, কোরিয়ায় এভাবে চুক্তির মাধ্যমে কর্মী যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এটি একটি প্রতারক চক্রের কাজ। একই সাথে বোয়েসেল কর্তৃপক্ষ মেরাজকে কোনো প্রকার অর্থ লেনদেন না করার পরামর্শ দেয় এবং প্রতারকদের আইনের আওতায় আনতে একটি ফাঁদ পাতেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহীর নওদাপাড়া আমচত্বর মোড়ের ডাচ-বাংলা এটিএম বুথের সামনে যখন আসামি আহসান হাবীব অগ্রিম টাকা নিতে আসে, তখন সেখানে ছদ্মবেশে উপস্থিত বোয়েসেলের উপ-মহাব্যবস্থাপক (বৈদেশিক নিয়োগ) ও সিনিয়র সহকারী সচিব জনাব নু-এমং মারমা মং এবং ব্যবস্থাপক (বৈদেশিক নিয়োগ-২) জনাব রিফাত তাহনীম রাজশাহী জেলা প্রশাসনের সহায়তায় তাকে হাতেনাতে আটক করেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আহসান হাবীব কোরিয়াগামী কর্মীদের তথ্য চুরি করে অবৈধভাবে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টার কথা স্বীকার করে।

পরবর্তীতে তাকে রাজশাহী মহানগরীর শাহমখদুম থানায় সোপর্দ করা হয় এবং ভুক্তভোগী মেরাজ আলী বাদী হয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

এ বিষয়ে বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলাম জানিয়েছে যে, সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি নিয়মে বোয়েসেলের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মী পাঠানো হয়। এখানে কোনো এজেন্টের মাধ্যমে ভিসা পাওয়ার বা বাতিল করার কোনো সুযোগ নেই।

এই ধরনের প্রতারক চক্রের হাত থেকে রক্ষা পেতে সকলকে সচেতন থাকার এবং প্রয়োজনে তাৎক্ষণিকভাবে বোয়েসেল কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুরোধ করেন তিনি।