সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) লোকপ্রশাসন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বুলবুল আহমেদ যেখানে হামলার শিকার হয়েছিলেন সেই স্থান পরিদর্শন করেছে পুলিশ। এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বুলবুলের বন্ধু মারজিয়া আক্তার উর্মিকে সঙ্গে নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার রাত পৌনে ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে যান পুলিশ সদস্যরা। 

একটি সূত্র জানিয়েছে, উর্মিকে ঘিরেই এখন চলছে বুলবুল হত্যাকাণ্ডের তদন্ত। চিকিৎসাধীন অবস্থায় চুপিসারে হাসপাতাল ছাড়ার পর পুলিশ তাকে আটক করলেও এখন তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রয়েছেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় উপস্থিত থাকছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক আমিনা পারভীন সাংবাদিকদের বলেন, যেহেতু বুলবুলের ওপর হামলার সময় ঊর্মি তার সঙ্গেই ছিল তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মনে করছেন তাকে ঘটনাস্থলে নেয়া হলে সে আরো বিস্তারিত বলতে পারবে। এজন্যই তাকে সেখানে নেয়া হয়। 

আমিনা পারভীন বলেন, প্রাথমিকভাবে উর্মি জানিয়েছে যে, সে ও বুলবুল ঘটনাস্থলে বসে ছিল। হঠাৎ করে মাস্ক পরা তিন ব্যক্তি সেখানে আসে। তারা বুলবুলকে একটু দূরে নিয়ে যায়। এ সময়ে উর্মি চারপাশে বাঁচানোর মতো কেউ আছে কিনা তা খুঁজছিল। হঠাৎ দেখতে পায় যে বুলবুল রক্তাক্ত পড়ে আছে এবং দুর্বৃত্তরা পালিয়ে গিয়েছে। ঘটনার আকস্মিকতায় হামলাকারীদের চিনতে পারেনি উর্মি। 

জানা যায়, বুলবুল নিহত হওয়ার পর বারবার অসুস্থ হয়ে পড়ায় বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মারজিয়া আক্তার উর্মিকে সিলেটের মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ভর্তি  করা হয়। তার সঙ্গে একাধিক সহপাঠী ছিলেন। পাশাপাশি নজরদারির জন্য হাসপাতালে পুলিশ সদস্যও মোতায়েন ছিল। তবে সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে কাউকে কিছু না বলে হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান তিনি। পরে নিজের মোবাইলের কল লিস্টও মুছে দেন তিনি।

এরপর নগরীর উপকণ্ঠ বাদাঘাট থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের দিকে যাওয়ার পথে তাকে পুলিশের হেফাজতে নেয়া হয়। পরে রাতে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হাতে তুলে দেয়া হয়। এরপর শিক্ষকদের উপস্থিতিতে প্রক্টরের কার্যালয়েই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে কে বা কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। 

জালালাবাদ থানার ওসি নাজমুল হুদা খান জানান, শুরু থেকেই উর্মির কথাবার্তা কিছুটা সন্দেহজনক ছিল। হাসপাতাল থেকে সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে চলে যাওয়ার পর সন্দেহ আরো বেড়ে যায়। সে কারণে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জিম্মায় রেখেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।