পারিবারিক কলহের জের ধরে কক্সবাজারের টেকনাফে ঘুমন্ত তিন ছেলেমেয়েকে তুলে বিষপান করিয়ে নিজেও বিষপান করেন পিতা আনোয়ার হোসেন (৩৫)। বিষক্রিয়ায় বাবা ও বড় মেয়ে সুমাইয়া আকতার রাফি (৯) ঘরেই মারা যায়। অপর মেয়ে মাহিমা তানিয়া (৩) ও জাবেদ ইকবাল (দেড় বছর) নামে দুই শিশু কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

গতকাল ভোররাতে টেকনাফ সাবরাং ইউনিয়নের শাহ পরীর দ্বীপ ৯ ওয়ার্ডের জালিয়াপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

আনোয়ার হোসেন স্থানীয় মৃত ফোরকান আহমদের ছেলে ও পুরাতন রোহিঙ্গা। বড় মেয়ে রাফি শাহ পরীর দ্বীপ জালিয়াপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থী।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বেশ কিছুদিন ধরে স্ত্রী রেহেনা আক্তারের সঙ্গে স্বামী আনোয়ারের কলহ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার দুজনের ঝগড়া হয়। বিকালে কোলের সন্তান নিয়ে স্ত্রী বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। রাতে আনোয়ার বাড়ি ফিরে দেখেন তিন সন্তান ঘুমাচ্ছে কিন্তু স্ত্রী বাড়ি ফেরেননি। তখন বেসামাল হয়ে আনোয়ার হোসেন তার তিন শিশু ছেলেমেয়েকে ঘুম থেকে তুলে জোরপূর্বক বিষপান করিয়ে নিজেও বিষপান করেন।

এতে আনোয়ার হোসেন ও তার ৯ বছরের মেয়ে রাফির মৃত্যু হয়। অপর দুই সন্তানকে মুমূর্ষু অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুস সালাম জানান, তাদের মধ্যে টুকটাক কলহ চলত। বেশ কয়েকবার সমাধানও করেছিলাম। শনিবার কলহ সৃষ্টি হলে স্ত্রী রেহেনা কোলের ছেলেকে নিয়ে দূরসম্পর্কের চাচার বাসায় চলে যান। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গভীর রাতে বিষপানের ঘটনা ঘটায় আনোয়ার।

টেকনাফ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল আলীম জানান, খবর পেয়েছি পারিবারিক কলহের জেরে বিষপানের ঘটনা ঘটান আনোয়ার। এতে আনোয়ার ও তার বড় মেয়ে সুমাইয়ার মৃত্যু হয়। অপর দুজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।