বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা অসহযোগ কর্মসূচির প্রথম দিনে গতকাল সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চাপা আতঙ্ক দেখা গেছে। বিশেষ করে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা-পাল্টাহামলাকে কেন্দ্র করে এদিন সচিবালয়ের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। মোতায়েন করা হয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের। দেখা গেছে সাঁজোয়া যানও। দুপুরের দিকে সচিবালয়ের সব গেট বন্ধ করে দেয়া হয়।

নিরাপত্তার স্বার্থে দর্শনার্থীদের প্রবেশের ক্ষেত্রেও নিরাপত্তাকর্মীদের মধ্যে বাড়তি সতর্কতা দেখা গেছে। প্রেস ক্লাব ও সংলগ্ন এলাকায় সংঘর্ষের সময় সাউন্ড গ্রেনেড ও গুলির শব্দে সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।

সরকার পদত্যাগের এক দফা দাবিতে অসহযোগ কর্মসূচির মধ্যে গতকাল সকাল থেকে রাজধানীর সড়কে যানবাহন দেখা গেছে খুব কম। ফলে গন্তব্যে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিপাকে পড়ে লোকজন। বেলা ২টা বাজতেই অনেকে সচিবালয় থেকে বাসার উদ্দেশে বেরিয়ে যান। অনেকে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় তাদের মধ্যে নিরাপদে বাসায় পৌঁছা নিয়ে শঙ্কা দেখা গেছে। দুপুরের দিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে গিয়ে দেখা যায়, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আছেন। তারা বলেন, যেহেতু অফিস খোলা, তাই তাদের আসতে হয়েছে। তবে চলাচলের ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে ভয় কাজ করছে।

গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সামন্ত লাল সেন, নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী শামসুন নাহারসহ কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত থাকলেও অন্যদের কেউ কেউ দুপুর পর্যন্ত সচিবালয়ের অফিসে আসেননি। এসব মন্ত্রীর দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সচিবালয়ের বাইরে অনুষ্ঠান ও সভা থাকায় দুপুর পর্যন্ত তারা আসেননি। কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী গণভবনে জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক কমিটির সভায় ছিলেন বলে জানা গেছে।

সচিবালয়ে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দর্শনার্থী ছিল না বললে চলে। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে এ নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আলোচনা করতে দেখা গেছে।