ত্যাগ, সংযম ও আত্মসমর্পণের মহিমায় সারা দেশের মুসলমানরা যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালন করছেন ঈদুল আজহা। রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে আজ সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হয় ঈদুল আজহার প্রধান জামাত।
প্রধান জামাতে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, বিদেশী কূটনীতিক, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

ছবি: তাওহীদুজ্জামান তপু
ঈদের প্রধান জামাতে ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মাওলানা মোহাম্মাদ মালেক। নামাজ শেষে তিনি খুতবা পাঠ করেন। পরে সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ মোনাজাত। মোনাজাতে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতিত ও নিপীড়িত মুসলমানদের নিরাপত্তা ও মুক্তির জন্য দোয়া করা হয়।
নামাজ ও মোনাজাত শেষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ উপস্থিত মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

ছবি: তাওহীদুজ্জামান তপু

ছবি: তাওহীদুজ্জামান তপু
বরাবরের মতো ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই জাতীয় ঈদগাহ এলাকায় ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। গত কয়েকদিন রাজধানীতে বৃষ্টি হলেও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ঈদ জামাতে অংশগ্রহণকারীরা ছিলেন স্বস্তিতে। ভোরের পর থেকেই দলে দলে মুসল্লিরা ঈদগাহে আসতে শুরু করেন। কারো কারো সঙ্গে ছিলেন পরিবারের সদস্য, বন্ধু কিংবা সহকর্মী।
জাতীয় ঈদগাহের মূল প্যান্ডেলে একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়। রাষ্ট্রীয় অতিথি, সাধারণ মুসল্লি ও নারীদের জন্য ছিল পৃথক প্রবেশপথ ও বসার ব্যবস্থা।

ছবি: তাওহীদুজ্জামান তপু
এছাড়া বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ রাজধানীর অন্যান্য মসজিদে সকাল সাতটা থেকে শুরু করে অনুষ্ঠিত হচ্ছে একাধিক জামাত। বিশেষ করে বায়তুল মোকাররমের জামাতে অংশ নিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মুসল্লিদের ঢল নামে।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এছাড়া বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও ঈদের শুভেচ্ছা জানান।

ছবি: তাওহীদুজ্জামান তপু
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার বাণীতে বলেন, কোরবানির মাংস আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে বণ্টনের মাধ্যমে সমাজে অংশীদারত্ব, সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও বৈষম্য হ্রাসের চেতনা জাগ্রত হয়। তিনি বলেন, কোরবানির ঈদ গরিব মানুষের সারা বছরের আমিষের চাহিদা পূরণে সহায়তা করে এবং সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতিকেও চাঙা করে।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ইসলামের মহিমান্বিত এ উৎসব শুধু আনন্দের নয়, বরং স্রষ্টার প্রতি গভীর বিশ্বাস, আত্মনিবেদন ও ত্যাগের এক চিরন্তন বার্তা বহন করে। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর অটল ঈমান, নিঃশর্ত আনুগত্য ও সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এ দিবসকে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর কাছে গভীর তাৎপর্যমণ্ডিত করেছে।

ছবি: তাওহীদুজ্জামান তপু
ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ভবনগুলোয় আলোকসজ্জা করা হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচার করা হচ্ছে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। এছাড়া হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা ও শিশু সদনে পরিবেশন করা হবে বিশেষ খাবার।










