ঈদুল আজহার তৃতীয় দিনে ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ। তবে এখনও রাজধানীমুখী যাত্রায় বড় ধরনের ভিড় তৈরি হয়নি। অনেকটাই ফাঁকা। সড়কে নেই যানবাহনের চাপ। অফিস-আদালতে নেই কর্মচাঞ্চল্য। ঈদ ঘিরে টানা ৭ দিনের ছুটিতে থাকা ঢাকার সবখানে এখনো অলস সময় কাটছে।
শনিবার (৩০ মে) সকালে রাজধানীগামী বিভিন্ন সড়ক ও বাসস্ট্যান্ড ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর, কিশোরগঞ্জ, গাজীপুরের কাপাসিয়াসহ আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ছেড়ে আসা অধিকাংশ বাসেই ছিল স্বাভাবিক সংখ্যক যাত্রী। কোথাও অতিরিক্ত ভিড় বা যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষার দৃশ্য চোখে পড়েনি। বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীদের বাসের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেলেও সেটি ছিল স্বাভাবিক সময়ের মতো। বাস আসার পর সহজেই আসন পেয়ে গন্তব্যে রওনা দিতে দেখা গেছে অনেককে। প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপও সীমিত। কোথাও কোথাও ব্যক্তিগত গাড়ি ও রিকশা চলাচল করলেও গণপরিবহনের সংখ্যা ছিল তুলনামূলক কম।
সরেজমিনে কমলাপুর রেলস্টেশন ঘুরে দেখা যায়, নোয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রেন প্ল্যাটফর্মে এসে দাঁড়াতেই যাত্রীরা হুড়মুড় করে নামছেন। তারা দ্রুত ব্যাগ-লাগেজ নিয়ে স্টেশন ছাড়ছেন। এসময় স্টেশনের কুলিদেরও ব্যস্ত হয়ে উঠতে দেখা যায়। শুধু ঈদের ফিরতি যাত্রাই নয়, ঈদের তৃতীয় দিনেও ঢাকা ছাড়ছেন কেউ কেউ। কমলাপুর রেলস্টেশনে আজ তেমন যাত্রীদেরও দেখা মিলেছে। তারা বলছেন, অনেকে ঈদের দ্বিতীয় দিন পশু কোরবানি দিয়েছেন। ফলে সবকিছু গুয়ে বাড়ি ফিরতে তাদের দেরি হয়ে গেছে।
পরিবহনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের ছুটি এখনও চলমান থাকায় অনেকেই পরিবার-পরিজনের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে সময় কাটাচ্ছেন। ফলে রাজধানীতে ফেরার চাপ ধীরে ধীরে বাড়ছে। ছুটির শেষ দিকে এবং অফিস-আদালত খোলার আগের দিনগুলোতে যাত্রীসংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শেরপুর থেকে ছেড়ে আসা রাজধানীগামী একটি বাসের হেলপার রবিউল ইসলাম বলেন, এখনও পুরোপুরি ফিরতি চাপ শুরু হয়নি। যাত্রীরা আসছেন, তবে বাসে স্বাভাবিক সংখ্যক মানুষই উঠছেন। ভাড়া আগের মতোই নেওয়া হচ্ছে, বাড়তি কিছু নেওয়া হচ্ছে না।
আরেকটি বাসের হেলপার রিফাও হাওলাদার বলেন, ঈদের পর সাধারণত কয়েক দিন পর ভিড় বাড়তে শুরু করে। আজ যাত্রী আছে, কিন্তু চাপ নেই। বাসস্ট্যান্ডেও যাত্রীদের বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। তবে আজ বিকেল থেকেই ভিড় বাড়তে পারে।










