বগুড়ার মহাস্থানগড়ের বৈরাগীর ভিটায় প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজে মিলেছে আটটি কূপ, মৃতপাত্র, পোড়ামাটির ভগ্নাংশ, ইটের গাঁথুনি ও বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। গবেষকরা ধারণা করছেন, এসব নিদর্শন খ্রিষ্টপূর্ব দ্বিতীয় শতক থেকে ১৪০০-১৫০০ শতকের মধ্যকার কোনো এক সময়ের।

এ খননকাজ বাংলাদেশ ও ফ্রান্স যৌথভাবে পরিচালনা করছে। মহাস্থানগড় প্রত্নস্থলের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে জানুয়ারি মাসের ১৮ তারিখ থেকে নতুন করে এ খননকাজ শুরু হয়েছে।

বগুড়ার মহাস্থানগড় প্রায় আড়াই হাজার বছরের পুরোনো নগরী। একসময় এটি পুন্ড্রনগরী নামে পরিচিত ছিল। গুপ্ত, পাল ও মৌর্য আমলে এটি ছিল এক সমৃদ্ধ জনপদ। মহাস্থানগড়ের মধ্যেই বৈরাগীর ভিটা নামে পরিচিত স্থানটি অবস্থিত। ধারণা করা হয়, এটি একসময় রাজবাড়ি ছিল, যেখানে মুনি-ঋষিরা বসবাস করতেন।

১৯২৮ সালে প্রথমবারের মতো এখানে খননকাজ চালানো হয়। তখন পাল আমলের দুটি মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়। এরপর ২০১৭ সালে আবারো শুরু হয় খননকাজ। পরে ২০১৮ সালে সেখানে পাওয়া যায় গুপ্ত, পাল ও মৌর্য আমলের ধ্বংসাবশেষ।

২০২০ সালের পর এবারই প্রথম বৈরাগীর ভিটায় আবারো খননকাজ শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে— আটটি কূপ, পোড়ামাটির বল, কাচের মালার পুঁতি, মৃতপাত্রের টুকরা, অলংকৃত ইটের ভগ্নাংশ ও ইটের গাঁথুনি।

বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের প্রত্নতত্ত্ববিদরা এসব নিদর্শন নিয়ে গবেষণা করবেন। গবেষণা শেষে মহাস্থানগড়ের জাদুঘরে এগুলো সংরক্ষিত হবে।

গত ৩১ জানুয়ারি বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত মারি ম্যাসদুপিন খনন এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও খননকাজ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং পরামর্শ দেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৩ সাল থেকে বাংলাদেশ ও ফ্রান্স যৌথভাবে মহাস্থানগড় এলাকায় খননকাজ চালিয়ে আসছে। করোনার কারণে খননকাজ কিছুদিন বন্ধ ছিল।

খনন প্রকল্পের ফরাসি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রত্নতত্ত্ববিদ ড. কলিন নেফ্রাংক। বাংলাদেশ দলের নেতৃত্বে রয়েছেন রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক ড. নাহিদ সুলতানা।

ড. নাহিদ সুলতানা বলেন, খননে পাওয়া নিদর্শনগুলোর বয়স খ্রিষ্টপূর্ব দ্বিতীয় শতক থেকে ১৪০০-১৫০০ শতকের মধ্যে হতে পারে। তবে এটি নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। পূর্ণাঙ্গ খনন শেষ হলে হয়তো আরও নতুন কিছু তথ্য পাওয়া যাবে।

বৈরাগীর ভিটায় আরও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট গবেষকরা।