জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরলেও বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তারা এখনো আস্থা ফিরে পায়নি বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় সিপিডি কার্যালয়ে ‘২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ অর্থনীতি: উত্তরণকালীন সময়ে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ’শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিনিয়োগ স্থবিরতার পেছনে প্রধানত দুটি কারণ কাজ করেছে—রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা। বর্তমানে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কিছুটা দূর হলেও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরেনি। তার ভাষায়, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এসেছে, নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। তবে সেই স্থিতিশীলতা বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরিতে এখনো পর্যাপ্ত নয়।

তিনি বলেন, নতুন সরকার দুই মাস ক্ষমতায় আছেন। সুতরাং তাদের আরেকটু সময় দিতে হবে। বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষা করছেন, বাজেটে কি ধরনের প্রস্তাব ও উদ্যোগের কথা উল্লেখ থাকবে। সংস্কার যেগুলো নেয়া দরকার সেগুলি সরকার কতটুকু নিচ্ছেন, কতটুকু নিচ্ছেন না সেটার জন্যও তারা অপেক্ষা করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ প্রসঙ্গে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এটি শ্রমিকবান্ধব কোনো সিদ্ধান্ত নয়; বরং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কৌশলগত বিবেচনার ফল। তার মতে, বিভিন্ন সময় যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বাণিজ্যনীতি নির্ধারণ করে, যেখানে বাংলাদেশের বাস্তবতা পুরোপুরি প্রতিফলিত হয় না।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, এ মুহূর্তে দেশের অর্থনীতির প্রধান উদ্বেগের জায়গা হলো উচ্চ মূল্যস্ফীতি। তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪ শতাংশে। মূলত জ্বালানি, পরিবহন ও বিভিন্ন সেবামূলক খাতের ব্যয় বৃদ্ধির কারণেই মূল্যস্ফীতি এ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

তিনি আরো বলেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত দুর্বলতার পাশাপাশি বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে দেশের অর্থনীতি এখনও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, চলতি অর্থবছরের শেষভাগে এসে দেশের আর্থিক, সামাজিক ও উৎপাদনশীল খাতগুলো নানামুখী সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সংকটগুলো নতুন নয়, বরং বিগত কয়েক বছর ধরেই ধারাবাহিকভাবে দৃশ্যমান। বিশেষ করে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সরকারি অর্থায়ন ও ব্যাংকিং খাতের চলমান অস্থিরতা ও চাপ থেকে এখনো পুরোপুরি উত্তরণ সম্ভব হয়নি।