২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক, অগণতান্ত্রিক ও বাস্তবতা-বিবর্জিত আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। আজ রাজধানীর তোপখানার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাজেট পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলে সংগঠনটি।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দলের পক্ষে বাজেট প্রতিক্রিয়া পাঠ করেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভুঁইয়া। তিনি বলেন, একটি রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রধান প্রত্যাশাই ছিল এমন একটি অর্থনৈতিক রূপরেখা—যা প্রচলিত আমলাতান্ত্রিক বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসে সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘব করবে। কিন্তু এ প্রস্তাবিত বাজেট সেই গণআকাঙ্ক্ষা পূরণে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
বাজেট প্রণয়নের পুরো প্রক্রিয়াটিই অগণতান্ত্রিক, তৃণমূল পর্যায় থেকে জনগণের সরাসরি অংশীদারত্ব নিশ্চিত না করায় এটি জনপ্রতিনিধিত্বমূলক চরিত্র হারিয়েছে। বর্তমান বাজেট দেশীয় শিল্প ও কৃষির বিকাশ এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার বদলে প্রকৃত উন্নয়নবিরোধী ও অর্থপাচার-বান্ধব পরিবেশ তৈরি করেছে জানান তিনি।
দিদার ভুঁইয়া আরো বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাজেটের মূল ঘোষণা হওয়া উচিত কর্মসংস্থানই উন্নয়ন।
সংবাদ সম্মেলনের দলের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম বলেন, আমলাতন্ত্রের ওপর জনগণের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ না থাকায়, বাজেট বাস্তবায়নে প্রতিটি আমলার কাজের ভূমিকাকে মূল্যায়ন করে তার ভিত্তিতে প্রমোশন বা ডিমোশনের ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
মুদ্রাস্ফীতি, টাকার অবমূল্যায়ন ও জনগণের জীবনমানের চরম অবক্ষয়কে বিবেচনায় না নিয়ে এই বাজেটকে কর্মসংস্থানবিমুখ এবং দেশী-বিদেশী ঋণ-নির্ভর করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এসময় অর্থনীতিকে আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ থেকে বের করে এনে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করতে প্রস্তাবিত বাজেট অবিলম্বে সংশোধনের জোর দাবি জানায় তারা।
সংবাদ সম্মেলনের সঞ্চালনা করেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সোহেল। এছাড়া, দলের সিনিয়র সহ- সভাপতি মাহবুবুর রহমান, সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান রাজা, নির্বাহী কমিটির সদস্য মঞ্জুর কাদির, শাহাবুদ্দিন কবিরাজ, বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শেখ নাসির উদ্দিন, অহিংস গণ অভ্যুত্থান বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক জালালউদ্দিন আহমেদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।










