২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে উত্তর চট্টগ্রামের রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও হাটহাজারী আসনের নির্বাচন নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন সাধারণ ভোটারসহ নির্বাচন-সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে রাউজানের ভোট নিয়ে সবচেয়ে আশঙ্কায় ছিল সাধারণ ভোটারসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে এসব উপজেলায় বড় ধরনের ঝামেলা ছাড়াই শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন।

রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া ডিগ্রি কলেজের মোট ভোটার সংখ্যা ৪ হাজার ২১৩। বেলা আড়াইটা পর্যন্ত এ কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ১ হাজার ৯৯৩। বেলা পৌনে ৩টার পর এ কেন্দ্রে কোনো ভোটার উপস্থিতি দেখা যায়নি। কিছুক্ষণ পর পর কয়েকজন ভোটারের উপস্থিতি দেখা গেলেও বাদবাকি সময়ে ভোট কাটতির হার খুবই নগণ্য বলে জানিয়েছেন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মো. শাহজাহান সিরাজ।

তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ায় সকালেই ভোটার উপস্থিতি ছিল উল্লেখ করার মতো। তবে দুপুরের পর থেকে কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কমে যায়। বিশেষ করে বেলা ২টা থেকে আড়াইটার মধ্যে ভোটারের সংখ্যা একেবারেই কমে যায়। তবে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পেরেছেন। রাউজানের মতো উপজেলায় ভোট নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা শঙ্কা থাকলেও সেটি বাস্তবে হয়নি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সরব উপস্থিতির কারণে কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই ভোট গ্রহণ হয়েছে।’

একই পরিস্থিতি হাটহাজারী, রাঙ্গুনিয়ায়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও এসব আসনের ভোট নিয়ে বিশেষ নজরদারি ছিল। তবে হাটহাজারী উপজেলা বা চট্টগ্রাম-৫ আসনে ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও উল্লেখযোগ্য কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

হাটহাজারীর উত্তর বুড়িশ্চর রশিদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুপুর সাড়ে ১২টায় গিয়ে দেখা যায় ভোট প্রদানের হার ১২টা পর্যন্ত ছিল ২৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ। তবে ওই সময়ে ভোট দেয়ার লাইনে অন্তত ৫০ নারী ভোটার উপস্থিত ছিলেন। কেন্দ্রটির প্রিজাইডিং অফিসার মো. মহিউদ্দিন আহমেদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘১ হাজার ৯৪৩ ভোটারের মধ্যে এ কেন্দ্রে নারী ৯৬০ এবং পুরুষ ৯৮৩ জন। সকালে ভোটার উপস্থিতি ছিল। দুপুর ১২টার পর নারী ভোটারের উপস্থিতি বেড়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তৎপর হওয়ায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।’

একইভাবে রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় পোমরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ৩ হাজার ২৯১ জন ভোটারের মধ্যে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ৩৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। তবে দুপুরের পর উল্লেখ করার মতো ভোটার উপস্থিতি ছিল না বলে জানিয়েছেন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা অজয় দেবনাথ। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ভোট শুরুর অনেক আগেই ভোটাররা কেন্দ্রের বাইরে লাইনে দাঁড়িয়েছিল। ভোট প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও প্রশাসনিকভাবে দ্রুত ভোট গ্রহণ হওয়ায় দুপুর ১২টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে কেন্দ্রে আসা অধিকাংশ ভোটই সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে দুপুরের পর বিচ্ছিন্ন গ্রুপ আকারে কিছু ভোটার কেন্দ্রে আসেন।’

প্রসঙ্গত, রাঙ্গুনিয়া চট্টগ্রাম-৭ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী। এ আসনে তার সঙ্গে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিম। এছাড়া রাউজানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গিয়াস কাদের চৌধুরীর বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী (চট্টগ্রাম) মো. শাহজাহান মঞ্জু। হাটহাজারী (চট্টগ্রাম-৫) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনের বিপরীতে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের কোনো প্রার্থী না থাকলেও ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের নাসির উদ্দিন মনির প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।