ঘূর্ণিঝড় আম্পান এরই মধ্যে শক্তি কমিয়ে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি এখন রাজশাহী অঞ্চল হয়ে উত্তর দিকে উত্তর-উত্তরপূর্ব এগোচ্ছে। এর প্রভাবে দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলার মধ্যে খুলনাতে বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এরই মধ্যে খবর পাওয়া গেছে, আম্পানের প্রভাবে কয়রা উপজেলার বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে তছনছ হয়ে গেছে। ৮টি এলাকায় বাঁধ ভেঙে ৪টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সুন্দরবনের ভারতীয় অংশে আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড় আম্পান। এরপর টানা কয়েকঘণ্টা তাণ্ডব চালায় রাজ্যটির বেশ কয়েকটি জেলায়। ভারতের অলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রতি ঘণ্টায় আম্পানের গতিবেগ ছিল ১৫৫ থেকে ১৬৫ কিলোমিটার। কোথাও কোথাও ১৮৫ কিলোমিটারও গতি উঠেছিল এই বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়ের।

ঘূর্ণিঝড়টি খুলনায় আঘাত হানে রাত সোয়া ৯টার দিকে। যা রাত প্রায় ১২টা পর্যন্ত জেলায় অবস্থান করছিল। খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন জানিয়েছেন, আম্পানের প্রভাবে কয়রা উপজেলায় বাঁধ ভাঙ্গাসহ ক্ষতির মাত্রা বেশি।

কয়রা উপজেলার দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মো. জাফর রানা গত রাতে ঝড় চলাকালে জানান, আম্পানের প্রভাবে কয়রায় বেড়িবাঁধে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। পানির চাপে গোলখালী, আংটিহারা, হরিহরপুর, গাজীপাড়া, গাববুনিয়া, চিংড়িখোলা, পপনা, দশালিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ভেঙ্গে গেছে। এর ফলে উত্তর বেদকাশি, দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে গেছে। আর কয়রা সদর ও মহারাজপুর ইউনিয়ন প্লাবিত হওয়ার পথে রয়েছে।

খুলনা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিরুল আজাদ জানান, বুধবার রাত সোয়া ৯টার দিকে আম্পান খুলনায় আঘাত শুরু করে। আম্পানের অগ্রভাগ সন্ধ্যায় খুলনায় আছড়ে পড়েছিল। আম্পানের প্রভাবে খুলনায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে গেছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বুধবার রাত ৯টা পর্যন্ত খুলনায় ৭৩ মি মি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুলিয়া সুকায়না জানান, বুধবার বিকালে বাঁধের ৬টি স্থানে মেরামত কাজ করা হয়েছে।